সরকারী বিধি-নিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাবনার চাটমোহরের বোঁথড় গ্রামে ৩ দিনব্যাপী চড়ক পূজা

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা প্রতি বছর পাবনার চাটমোহরের বোঁথড় গ্রামে চড়ক পূজার আয়োজন করে। তবে এবার পুজা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু প্রথম দিনেই অল্প সংখ্যক ভক্তবৃন্দকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছিল, পূজা শেষে তাদের বের হয়ে যেত এবং এরপর নতুন একদল ভক্তপূজা মন্ডপে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছে। গতকাল এবং আজ শুধু আনুষ্ঠানিক পূজার আয়োজন চলেছিল, কিন্তু উপস্থিতি ছিল খুবই কম ভক্তের।

প্রতি বছর চৈত্রের ৩০ তারিখে চড়ক মেলা শুরু হয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের পরের দিন শেষ হয়। এবার ছিলনা কোন মেলা, বসতে দেয়া হয়নি কোন দোকান। করোনার করাল গ্রাসে এই চড়কপূজার উৎসব হারিয়েছে তার জৌলুস।
মেলায় বাঁশ, বেত, কাঠ, মাটি ও ধাতুর তৈরী বিভিন্ন ধরণের তৈজসপত্র ও খেলনা, বিভিন্ন রকমের ফল-ফলাদি ও মিষ্টি-মিষ্টান্ন ক্রয়-বিক্রয় হয়। এছাড়া যাত্রা, সার্কাস, বায়াস্কোপ, পুতুলনাচ, ঘুড়ি ওড়ানো ইত্যাদি চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা থাকত। এই মেলায় ধর্ম-বর্ণ নিঃর্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষের সমাবেশ ঘটে। অতীতে চৈত্র সংক্রান্তি মেলা উপলক্ষে গ্রামাঞ্চলের গৃহস্থরা নাতি-নাতনিসহ মেয়েজামাইকে সমাদর করে বাড়ি নিয়ে আসত। গৃহস্থরা সবাইকে নতুন জামাকাপড় দিত এবং উন্নতমানের খাওয়া-দাওয়ারও আয়োজন করত। মেলার কয়েকদিন এভাবে তারা সবাই মিলে আনন্দ উপভোগ করত। বর্তমানে শহুরে সভ্যতার ছোঁয়া লাগায় আবহমান গ্রামবাংলার সেই আনন্দমুখর পরিবেশ আর আগের মতো নেই। তবে এখন শহরাঞ্চলের নগর সংস্কৃতির আমেজে চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব বা মেলা বসে, যা এক সর্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ফলে ‘চৈত্র সংক্রান্তি’ প্রধানত হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব হলেও অসাম্প্রদায়িক বাঙালির কাছে এক বৃহত্তর লোকউৎসবে পরিণত হয়েছে দিনটি।
শুধু এপার বাংলা নয়, বিগত বছর গুলোতে বছর ওপার বাংলা থেকেও ভক্ত-পুণ্যার্থীরা আসে চড়ক পূজা ও মেলায়। পাট ঠাকুরের পাটে ধূপ দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় চড়ক পূজার আনুষ্ঠানিকতা। প্রত্যেকবারের মতো এবারও বিশ্বাস বাড়ির পুকুর থেকে চড়ক গাছ তোলার পর তা বোথড় মন্দির প্রাঙ্গণে আনা হয়। এ সময় মনোবাসনা পূরণের আশায় গাছে তেল, দুধ, চিনি ও মাখন ঢালে ভক্ত-অনুসারীরা। এ ছাড়া আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে হাজরা নাচ, ভরন চালুন, কালী নাচসহ আনুষঙ্গিক পূজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়। রাতে ফুল ভাঙা, হাজরা ছাড়ার পরদিন চড়ক গাছ ঘোরানো হয়েছিল।
করোনাভাইরাসের জন্য এই অঞ্চলের মানুষের উৎসবের আমেজে ভাটা পরার সাথে সাথে মেলা না হবার সিদ্ধান্ত বন্ধ করে দিয়েছে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও।

Please follow and like us:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here