হাতীবান্ধায় যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূর মুখে বিষ দেওয়ার অভিযোগ!

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার প্রত্যান্ত পল্লীতে যৌতুকে দাবীকৃত টাকা না দেওয়া এক গৃহবধূকে মারপিঠ করে জোরপূর্বক বিষ মুখে ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মনিফা বেগম গত (২০ সেপ্টেম্বর) রবিবার তারিখে হাতীবান্ধা থানায় মনিফা বেগম লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, উপজেলার গোতামারী এলাকার কিশামত ধওলাই গ্রামের একরামুল হকে এর ছেলে আওলাদ হোসেন (৩৫) এর সাথে পার্শ্ববর্তি কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়নের কবির মিয়া’র মেয়ে মোছাঃ মনিফা বেগম (৩২) এর প্রায় ১৪ বছর পূর্বে বিবাহ হয়। দাম্পত জীবনে তারা ৩ সন্তানের জনক জননী হন।এদিকে বিয়ের পরে প্রায় সময় আওলাদ হোসেন স্ত্রীকে যৌতুকে টাকার জন্য চাপ দেন। মেয়ের সুখের কথা ভেবে কবির মিয়া ১ লাখ টাকা দেন কিন্তু আওলাদ হোসেন পুনরায় আরোও ১ লাখ টাকা দাবী করেন। কবির মিয়া গরীব মানুষ তাই আর কোন টাকা দিবে না বলিলে আওলাদ হোসেন কারনে অকারনে উক্ত গৃহবধূর কে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। ৩ টি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নির্যাতন সহ্য করে আসছিলেন গৃহবধূ মনিফা।
অভিযোগ সুত্রে আরো জানাযায়, গত (০৯ সেপ্টেম্বর) বুধবার সকালে পুনরায় যৌতুকে ১ লাখ টাকা জন্য আওলাদ হোসেন তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি সহ মারপিঠ করেন। এক পর্যায়ে বিষের বোতল আনিয়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহাযোগিতায় বিষের বোতলের কর্ক খুলিয়া বোতলে থাকা বিষগুলি জোর পূর্বক গৃহবধূর মুখে ঢালিয়া দেয় এবং পেটের ভিতরে গেলে মনিফা বেগম জ্ঞান হারায়। অবস্থার বেগতিক দেখে দিলে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করান। দায়িত্বরত চিকিৎসক উক্ত গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপালে রেফার্ড করেন। সেখানে ১২দিন থাকার পর বর্তমানে বাবার বাড়ীতে থেকে চিকিৎসা গ্রহন করছেন মনিফা বেগম।
এ ব্যাপারে গৃহবধুর স্বামী আওলাদ হোসেন এর বড়ভাই আতিয়ার রহমান বলেন,স্বামী স্ত্রীর ঝগড়ার এক পর্যায়ে মনিফা বেগম নিজে বিষ খেয়েছে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Please follow and like us: