লালমরিরহাটে জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির বিধবা ভাতা!

জীবিত স্বামীকে মৃত্যু দেখিয়ে একাধিক মহিলার নামে বিধবা ভাতা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদের বিরুদ্ধে। এবিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের লিখিত অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
বিধবা ভাতা গ্রহনকারী ব্যক্তিরা এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদকে দায় করলেও তিনি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টায় ব্যস্ত। প্রাপ্ত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের গৃহীত জনকল্যাণ মূলক কর্মসুচীর আলোকে তৃর্নমুল পর্যায়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত বিভিন্ন ভাতাদীকে নিজেদের লোকদের দিয়ে আসছেন উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ, ইউপি সদস্য ও সমাজসেবা অধিদপ্তর এর ইউনিয়ন কর্মী আব্দুল জলিল।
অভিযোগ রয়েছে তারা অর্থের বিনিময়ে সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে পছন্দের লোকজনের নাম বিধবা ও স্বামী নিগৃতা (পরিত্যাক্তা) ভাতায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
বিধবা ভাতার সরকারি নীতিমালায়- যার স্বামী মৃত্যু বরণ করেছেন বা স্বামী পরিত্যাক্তা উল্লেখ থাকলেও চলতি (২০১৯/২০২০) অর্থবছরে ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের বিধবা ও স্বামী নিগৃতা ভাতায় যাদের নাম অন্তরভূক্ত করা হয়েছে তাদের বেশি ভাগ ব্যক্তির স্বামী জীবিত আছে। স্বামীর সাথে সংসার করে আসছেন এমন একাধিক মহিলাও বিধবা ভাতার টাকা উত্তোলন করেছেন। ফলে গত ০৪/১০/২০২০ ইং তারিখে এলাকাবাসী ঐ ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও সমাজসেবা অধিদপ্তর এর ইউনিয়ন কর্মীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়াও ঐ অঅভিযোগ পত্রের অনুলীপি সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, স্থানীয় প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ক্লাবে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাঠান। বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নে বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, ৯ নং ওয়ার্ডের জোহরা খাতুন, নুরনাহার খাতুন, মহিলা খাতুন, দেলেজান নেছাসহ আরও অনেকের স্বামী জীবিত আছেন। ৮ নং ওয়ার্ডে দৌলতন নেছা, ৫ নং ওয়ার্ডের মাহফুজা আক্তারসহ পুরো ইউনিয়নে আরোও অনেক ব্যক্তির স্বামী এখনও জীবিত থাকাসহ তারা স্বামী সংসার করছেন।
স্বামী জীবিত বিধবা ভাতা’র টাকা উত্তোলন করেছেন স্বীকার করে ঐ ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের নুরনাহার খাতুন ও মহিলা খাতুন বলেন, কায়েদ চেয়ারম্যান আমাদের কাছে কাগজ চেয়েছে আমরা দিয়েছি আমাদের নামে কিসের ভাতা হয়েছে তা জানিনা। ৮ নং ওয়ার্ডে দৌলতন নেছাসহ নাম প্রকাশ না করা শর্তে সুবিধাভোগী অনেকে বলেন, বয়স্ক ভাতার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে কাগজ নিয়েছে এখন দেখি বিধবা ভাতা হয়েছে।
এলাকাবাসী অনেকে অভিযোগ করে বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর এর ইউনিয়ন কর্মী আব্দুল জলিল এর সহযোগিতায়, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যগণ অর্থের বিনিময়ে এমন অনিয়ম করেছেন।
ইউপি সদস্যরা কেন এমনটা করলেন জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক ইউপি সদস্য বলেন, যাদের স্বামী জীবিত আছে তাদের নাম চেয়ারম্যান দিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ভাগের তালিকা দেখলে তা জানা যাবে কে কারকার নাম দিয়েছে।
এ বিষয়ে অত্র ইউপি চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ বলেন, এমনিতে আমাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেক লেখালেখি হয়েছে। আমি এবিষয়ে কিছু বলতে পারবনা। আপনারা ফেসবুকে দেখেন।
উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর এর ইউনিয়ন কর্মী আব্দুল জলিল বলেন, চেয়ারম্যান আমাকে তালিকা দিয়েছে তাই আমি যাচাই না করে অফিসে জমা দিয়েছি। কেন যাচাই করলেন না? এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দেয়নি আব্দুল জলিল।
উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মাহাবুবুল আলম বলেন, তদন্ত চলছে সত্যতা পেলে যাদের স্বামী আছে তাদের নাম কর্তন করাসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল আমিন অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
Please follow and like us: