অতিরিক্ত আঘাতেই রায়হানের মৃত্যু : প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্ট

সিলেটে পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত যুবক রায়হানের প্রথম ময়নাতদন্তের ভিসেরা রিপোর্টে বিষক্রিয়ার আলামত পাওয়া যায়নি। অতিরিক্ত আঘাতের কারনেই রায়হানের মৃত্যু হয়েছে।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. শামসুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ২৬ নভেম্বর ওই রিপোর্টটি মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনের পর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রায়হানের মরদেহ পান স্বজনরা। ঐ দিনই তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

পরে, পিবিআই মামলার তদন্তভার গ্রহনের পর ১৫ নভেম্বর পুনরায় লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্ত করে।

প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে গুরুতর আহত হন রায়হান। তাকে ওইদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন বন্দরবাজার ফাঁড়ির এএসআই আশেকে এলাহীসহ পুলিশ সদস্যরা। সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান রায়হান।

ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নগরের কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।

এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করেন। ঘটনার প্রায় ১ মাস পর ভারত সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মূল অভিযুক্ত বরখাস্ত হওয়া এসআই আকবরকে। মামলাটি পুলিশ সদরদপ্তরের নির্দেশে পিবিআইয়ের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

একে একে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এসএমপির মোট আট পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজন প্রত্যাহার হয়েছেন। এছাড়া এ পর্যন্ত এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়াসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে চার পুলিশ সদস্যকে।

Please follow and like us: