হট লাইনে কল করার মাত্র এক ঘন্টার মধ্যেই বাড়িতে পৌছে যাচ্ছে ত্রান সহযোগীতা

এমপি আলহাজ্ব এ্যাড. সাইফুজ্জামান শিখরের প্রতিষ্ঠিত করোনা হটলাইনের সেবায় মুগ্ধ মাগুরাবাসি, হট লাইনে কল করার মাত্র এক ঘন্টার মধ্যেই বাড়িতে পৌছে যাচ্ছে ত্রান সহযোগীতা

প্রকৌশলী সুজন ভৌমিক (প্রকাশক ও সম্পাদক) এবং শাহীনুর আহমেদ (সম্পাদকীয় উপদেষ্টা)ঃ গত ১৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক সমগ্র বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষনা করেছে। এখন পুরো মাগুরা শহর অঘোষিত লকডাউনে।

এ পর্যন্ত ১৩ জন করোনা ভাইরাসের জন্য পরীক্ষা করিয়েছেন এবং সবার রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তবে এর মধ্যে একজন মৃত্যুবরন করেছেন। এ তথ্য আমাদেরকে জানান মাগুরা প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক জনাব শামীম খান। তিনি জানান মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ্যাড. সাইফুজ্জামান শিখরের নির্দেশে এবং সমন্বিত উদ্যোগে ও উচ্চবিত্তদের সহায়তায় গঠিত তহবিল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের জন্য খাদ্য সরবরাহ করেছেন। হট লাইনে কল করার মাত্র এক ঘন্টার মধ্যেই বাড়িতে পৌছে যাচ্ছে ত্রান সহযোগীতা। হট লাইনগুলো পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন প্রধান সমন্বয়কারি জেলা যুবলীগের আহবায়ক ও মাগুরা সমাজ কল্যাণ সংসদের সভাপতি ফজলুর রহমান সহ আরো অনেকে। ত্রান সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চাল, তেল, আলু, সাবান, পেয়াজ ইত্যাদি। তিনি আরো জানান জনাব আলহাজ্ব এ্যাড. সাইফুজ্জামান শিখর নির্দেশে যতদিন পর্যন্ত এই দুর্যোগ শেষ না হবে ততদিন তিনি এ সহযোগীতা করবেন।

মাননীয় মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ্যাড. সাইফুজ্জামান শিখরের আরো একটি মহত উদ্যোগের বিষয়ে জানাগেছে তিনি মহম্মদপুরে যুব সমাজকে কাজে লাগিয়ে ১০টাকায় বাজার নামে একটি সংগঠন করেছেন।  এলাকাটি তার নির্বাচনী এলাকা না হলেও সেখানে এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠি মাত্র ১০টাকার বিনিময়ে চাল, ডাল, তেল, পেয়াজসহ নুন্যতম একটি প্যাকেজ পাবেন এর ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যা কিনা ত্রান এর বিপরীতে দরিদ্র জনগোষ্ঠিকে সহায়তা করার একটি পদ্ধতি মাত্র। যেন যে ব্যক্তিটির দিন আনে দিন খায় এরকম সামর্থ্য ছিল কিন্তু এই সময়ে তার কাজকর্ম না থাকায় খেতে পারছেন না আবার লজ্জায় কারো কাছে কিছু চাইতেও পারছেন না শুধুমাত্র এই দিক বিবেচনা করেই এই উদ্যোগ গ্রহন করেছেন মাননীয় এমপি মহোদয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান- আমরা শহরের ছোটখাট ব্যবসায়ী। প্রায় ২মাস ধরে ব্যবসা বন্ধ। এ অবস্থায় জমানো টাকায় কোনক্রমে চলছিলাম। আজ আর না পেরে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ্যাড. সাইফুজ্জামান শিখরের নির্দেশে প্রতিষ্ঠিত হট লাইন নম্বরে ফোন দিয়েছি। এত রাতে হট লাইনের স্বেচ্ছাসেবকরা বাড়ির সামনে এসে ফোন দিয়ে খাবার দিয়ে গেলেন। প্রথমে আমার বিষয়টি বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু পরে দেখলাম সত্য। এজন্য আমি ও আমার পরিবার ভিষন কৃতজ্ঞ। একইভাবে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ফোনকলের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য খাবার সরবরাহ করছে হটলাইন স্বেচ্ছাসেবকরা।

এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে জেলাপ্রশাসন থেকে সার্বিক সমন্বয়ের কথা বলেন এলাকাবাসী। যেন কেউ কয়েকবার এই সহায়তা পাচ্ছেন আবার কেউ একবারও পাচ্ছে না এমন না হয়। তবে জনাব এড. সাকারুল ইসলাম সাকিল আমাদেরকে জানান এটি হওয়ার আশংকা একেবারেই নেই। কারন যিনি ত্রান সহায়তার জন্য এমপি শিখরের প্রতিষ্ঠিত করোনা হটলাইনে ফোন করছেন আমরা তার কাছে জেনে নিয়েছি তিনি আর কোন জায়গা থেকে সহায়তা পেয়েছেন কিনা। এটি তথ্যটি আমরা সংরক্ষন করছি এবং পরবর্তীতে আমরা জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয়ও করছি।

হটলাইনের নম্বরগুলো হচ্ছে- 01712-501599, 01745-473051, 01711-166729, 01715-549098 এবং 01985-545900.

এছাড়াও মাননীয় এমপি মহোদয়ের তত্ত্বাবধানে ভায়নার মোড় এবং ২৫০ শয্যা হাসপাতালে জীবানুনাশক কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে এবং আরো ১টি পক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবকদের অন্যতম সমন্বয়কারী কছুন্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বাকি বিল্লাহ সান্টু বলেন- হটলাইনে ফোন দেয়া মানুষের নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর আমরা একটি রেজিস্ট্রারে সংরক্ষণ করি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আমরা সন্ধ্যায় সেগুলি যাচাই বাছাই করে রাতে এলাকা অনুসারে ভাগ করে খাবার নিয়ে বেরিয়ে পড়ি মানুষের সহযোগিতার উদ্দেশে। তবে একটি ঘটনা আমার হ্রদয়কে নাড়িয়ে দিয়েছে, গতদিন রাতে এক বাড়িতে খাদ্য সহায়তা দিতে গেলে একটি ৪ বছরের শিশু তার মা’র নির্দেশে তা আমাদের নিকট থেকে গ্রহন করে এবং এতো খুশি হয় তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। হয়তোবা ঐ দিন না খেয়ে ছিল ঐ শিশু এবং তার পিতা মাতা।

হট লাইনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়কারি জেলা যুবলীগের আহবায়ক ও মাগুরা সমাজ কল্যাণ সংসদের সভাপতি ফজলুর রহমান জানান- মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ্যাড. সাইফুজ্জামান শিখরের নির্দেশ ও সহযোগিতায় প্রধানত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষ যারা লোকলজ্জার ভয়ে লাইনে দাড়িয়ে সরকারি সহায়তা নিতে পারেন না তাদের জন্য নাম না প্রকাশের শর্তে এ সহায়তা। এছাড়া যে কোন মানুষ ঘরে বসেই পেতে পারেন এ সেবা। এ কার্যক্রমে জেলাযুবলীগের পাশাপাশি মাগুরা সমাজকল্যাণ সংসদের সদস্যবৃন্দ স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। এই স্বেচ্ছাশ্রম এর সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ১০জন ও ৪টি মোটর সাইকেল এবং অন্যান্য সহযোগীতায় সাথে আরো অনেকেই। ইতিমধ্যে আমরা ৫ শতাধিক বাড়িতে খাবার পৌছে দিতে পেরেছি। করোনার বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন সে যুদ্ধে আমরা জয়ী হবই। এ আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

Please follow and like us: