সোনালী রৌদ্র নিভে গেছে আজ——-দেবদাস কর্মকার

সোনালী রৌদ্র নিভে গেছে আজ
————————————————————————
দেবদাস কর্মকার
সোনালী রৌদ্র নিভে গেছে আজ,কুয়াশা রাত্রি
দিয়েছে টেনে কালো পর্দা নির্লজ্জ চোখের উপর,
পৃথিবীর সমস্ত শান্তি স্থবির হয়ে পড়ে আছে যেন মৃত্যুর ওধারে, মড়ার কবর ফুটে বসে আছে যারা হায়নার অবয়বে,ঘৃণায় বিতৃষ্ণায় দুমড়েমুচড়ে পড়ে আছে নারীর শরীর, কি এমোন ঘৃণ্য পিপাশা জেগেছে পুরুষের, নেশাতুর বোধে বিষদাত খুলে উন্মাদের মতো
সে করেছে আঘাত।
সে কি ভুলে গেছে শ্বাপদ সংকুল প্রস্তর অরণ্যে একদিন
জন্ম দিয়েছিলো মা প্রসব বেদনার গভীর স্তরে,
অসহায় শিশু মুখে তুলে দিয়ে ছিলো স্তনের প্রথম শাল দুধ,সমুদ্রের লোনাজলে আঁশটে দেহ ধুয়ে শুকোতে দিয়ে ছিলো তারে নক্ষত্রের তলে,কতো তৃষ্ণা ক্ষুধার উপরে টেনে দিয়েছে রক্তের ভালোবাসা হৃদয়ে জড়ায়ে, কতো রাত নিরঘুম কেটেছে তার বেদনার স্যাতস্যাতে ঘরে,কতো আকাঙ্ক্ষার নদী স্বপ্ন তৃষ্ণা জেগে ছিলো হৃষ্ট মনের দেয়ালে দেয়ালে, কতোটা সময় অভুক্ত কেটে গেছে তার সন্তানের মুখে তুলে দিতে তৃপ্তির আহার।
কিন্তু কতোটা লঘুতা পেয়েছে তাকে,অকৃতজ্ঞ কর্তৃত্বে ঘৃণ্য পুরুষ, নতমুখে দাড়িয়ে মানবী,বস্ত্রহরণের অভিশাপ জ্বলছে বিধাতার চোখে, দ্রৌপদী নির্বিকার মনে জপছে শক্তির আহ্বান, কি করে ঠেকাবে পুরুষ আগুনের লেলিহান শিখা, রমনী মানেই রমনের বৃত্তহীন অধিকার নয়,তোমার কলঙ্কিত মুখের পাশে স্পষ্ট অক্ষরে জ্বলজ্বলে পবিত্র জননীর ছায়া, চোখে যার ঝাঁঝালো সংহারের শিখা,
মৃত সভ্যতার অগোচরে সোনালি রৌদ্র নিভে গেছে আজ,বিধাতার চোখে তাই বিচ্ছুরিত অভিশাপ,পৃথিবীর মুখের উপরে ঝুলে আছে যেন ভয়ঙ্কর অসুখের মতো কালো পর্দা।
Please follow and like us: