দেখেছে পিতার মুখ ——— দেবদাস কর্মকার

নিশাচর বার বার এসে হানে আঘাত তোমার উপরে অন্ধকারে, নষ্ট বীজ ফলেছে তাদের হৃদয়ের মাঠে
ভুলে গেছে ওরা, তুমিতো দিয়েছো সব ভালোবেসে,
যেখানে দাঁড়িয়ে পায়ের নিচের মাটি নরোম সবুজ ঘাস
সে তোমারি দানে হয়ে আছে উর্বর, ভুলে গেছে ওরা সব।
ওরা দেখেছে পিতার মুখ, শুনেছে বাঘের গর্জন
ওরা জানে কি করে বঙ্গোপসাগরে ওঠে ঢেউ, সমস্ত শোক হয়ে ওঠে অঙ্গার, তারপর রুঢ় কোলাহলে জাগে প্রতিরোধ, যেমনটা একদিন এ মাটি ভালোবেসে উঠেছিলো প্রতিশোধ।
মাঠের গভীরে অন্ধকারে বেড়েওঠে ধেরে ইঁদুরের দল
রাত হলে কাঁটে ধান সোনালি ফসল,নষ্ট অতীত শিয়রে তাদের,কতোটা অজ্ঞানে ক্ষুধিত ভাষার মতো অতল সত্যেরে করে নাশ,যদি মরে যায় কঠিন বিশ্বাস স্পর্ধিত আকাঙ্ক্ষার আলোড়নে, অশান্ত হাওয়ায় যদি দুলে ওঠে মানুষের মন।
যারা দেখেনি পিতার মুখ, শোনেনি বাঘের গর্জন
আগামী মানুষ দেয় বুঝি জীবনেরে ডাক,পৃথিবীর অধীর বাতাসে, মৃত্যুর জড়তা ভেঙে কঠিন ডানায়
সেই স্ফুলিঙ্গ জাগে বুঝি মানুষের ক্ষুব্ধ হৃদয়ে
সকল মানুষের সরল প্রার্থনায় সমস্ত হৃদয়ের গানে।
যারা দেখেনি পিতার মুখ, শুনেছে বাঘের গর্জন
নরোম পলির বুকে যে ফলেছে ফসল, রঙিন ঘাসের ফুল, কতো স্বপ্ন জন্ম লয় এই মৃত্তিকা জুড়ে, কখনো কঠিন কখনো কোমল, যারা টেনে নেবে পৃথিবীর রথ
তারা দেখেছে পিতার মুখ, শুনেছে মেঘের গর্জন।
১৬ /১২/২০২০ ঢাকা। ১ পৌষ ১৪২৭
Please follow and like us: