“ডেথ অফ অথোর”- সমালোচনার একটা সুন্দর নিয়ম

ফ্রেঞ্চ থিয়োরিস্ট রোনাল্ড বার্থেস লিটারেচার ক্রিটিসিজমের একটা নিয়ম প্রবর্তন করেছেন, যেটাকে বলা হয়, “ডেথ অফ অথোর”৷ কথাটার মানে হল, একটা শিল্প, সাহিত্য, নিয়ম-নীতি বা ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি প্রকাশিত হবার পর ধরে নিতে হয় তার রচয়িতা মৃত৷ তার রচিত সাহিত্য/শিল্পের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত জীবনের আলোচনা একেবারেই বাদ দেয়া উচিত৷
এই তত্বের বাইরে কেউই নন৷ যিনি প্রবর্তন করলেন উনাকে সেটা মানতেই হবে এমন কোন মাথার দিব্যি দেয়া নেই৷  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “বিধবা বিবাহ” প্রবর্তন করার পর নিজের পুত্রের বিবাহ একজন বিধবার সাথে দিয়েছিলেন৷ সবাইকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ভাবা বাদ দেন, আর নিজেকে তুলনা করে দেখেন আপনি কতবড় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর? এই ঘটনাটিই বরং ব্যতিক্রম৷
আপনি যদি সর্বশ্রেষ্ঠ মানবদের জীবনী পর্যালোচনা করেন তাহলে দেখবেন অনেকেই সমাজের নিজের প্রচলিত আইন মানেন নি জীবদ্দশায়৷ তার মানে কিন্তু সেই নিয়ম বাতিল হয়ে যাবে এমন না৷ তিনি মানবেন কি মানবেন না সেটা তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়৷ এ নিয়ে মরাল পুলিশিং করার কোন মানে নেই৷
Please follow and like us:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here