বগুড়ায় লকডাউনে ৯দিনে যানবাহনে ২৯৭টি মামলায় ১০ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা জরিমানা

জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত
বগুড়ায় লকডাউনে ৯দিনে যানবাহনে ২৯৭টি
মামলায় ১০ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা জরিমানা

সঞ্জু রায়: বগুড়ায় লকডাউনে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং মোটরযান আইন অমান্য করার বিভিন্ন অপরাধে গত ১৪ এপ্রিল থেকে লকডাউনের ৯ম দিন ২২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলা পুলিশের পৃথক অভিযানে মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, ট্রাক, পিক-আপ ও কভার ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে ডিজিটাল মিটারে মোট ২৯৭টি মামলা দায়ের করে জরিমানা করা হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা।
লকডাউন ঘোষণার ২য় দফার ১ম দিনে বৃহস্পতিবার শহরের বিভিন্ন স্থানেও জেলা পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত ছিল। সকালে শহরের সাতমাথায় জরুরী সেবা এবং সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া যারা বিভিন্ন যানবাহন নিয়ে বাহিরে বের হয়েছেন আবার যাদের গাড়ির কাগজপত্র এবং হেলমেট নেই তাদের বিরুদ্ধে নিজেরা উপস্থিত থেকে যানবাহনে মামলা দায়ের করে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষকে সচেতন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুর রশিদ ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ। তবে শুধু সাধারণ মানুষ নয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন সচেতন ব্যক্তিবর্গরাও রেজিষ্ট্রেশন ও হেলমেটবিহীন যানবাহন নিয়ে এই লকডাউনের মাঝেও শহরে বিচরণ করে যাচ্ছে যে দৃশ্য সত্যিই হতাশার। ট্রাফিক বিভাগের সূত্র অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সারাদিনে মোট ২৭টি মোটরসাইকেলে মামলা দেয়া হয়েছে এবং আটক করা হয়েছে ২টি মোটরসাইকেল যেখানে বিভিন্ন অপরাধে ডিজিটাল ¯িøপে জরিমানা করা হয় মোট ৯৭ হাজার টাকা।
বগুড়া জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফয়সাল মাহমুদ জানান, করোনা সংক্রমণের হার কমাতে এবং সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাহে রমজানের প্রতিটি দিন রোজা থেকেও পুলিশ সদস্যরা তাদের সর্বোচ্চ দায়িত্বটুকু পালনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট, শহরজুড়ে রয়েছে পুলিশের টহল দল , দায়িত্বরত রয়েছে পোষাক ও সাদা পোষাকে পুলিশের বিভিন্ন টিম তারপরেও মানুষের চাহিদা কিংবা মানবিকতার কাছে গণমানুষকে ঘরমুখী করতে ব্যাপক হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের।
আবার জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানের পাশাপাশি পুলিশের এই অভিযান প্রসঙ্গে অসচেতন মানুষরা অখুশি হলেও সচেতন মানুষরা সাধুবাদ জানিয়েছে কারণ সমাজের অধিকাংশ মানুষেরাই মনে করেন এই অভিযানগুলো আছে বলেই মানুষ জরিমানা দেওয়ার ভয়েতে হলেও ঘর থেকে কম বেরোচ্ছে। তবে মানবিকতার স্বার্থে গরীব মানুষের প্রতি সদয় এবং মানবিক হওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেন সুশীল সমাজের অনেকে।
এ প্রসঙ্গে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুর রশিদ বলেন, করোনাকালীন ২য় ঢেউয়ে মানুষের মাঝে বিনা কারণে বের হওয়ার ব্যাপক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। করোনার সংক্রমণ কমাতে তিনি বগুড়ার সকল শ্রেণীপেশার মানুষকে সচেতন এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহŸান জানান। তবে জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম হিসেবে বগুড়ায় মানবিকতার সাথেই পুলিশ সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে মর্মে জানান তিনি।

Please follow and like us:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here