সেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিককে মহাসচিব পদ হতে অব্যাহতি

সেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিককে মহাসচিব পদ হতে অব্যাহতি

আজ ০৭ ফেব্রুয়ারী’২০২০, শুক্রবার, সকাল ১১.০০ ঘটিকা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র (ডিআরইউ) সাগর-রুনি’ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কার্যনির্বাহী কমিটির মতামতকে সদা সর্বদা অগ্রাহ্য করে বিভিন্ন সময়ে সংগঠনের আদর্শ ও স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকা, আর্থিক অনিয়ম, সংগঠনের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে চাঁদা আদায় ও নানা ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিককে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব পদে হতে অব্যাহতি দেয়া হলো। তাঁর এ শূন্যপদে ডাঃ মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টকে মহাসচিবের পদ তথা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদায়ন করা হলো। লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য জানালেন উত্তম কুমার দাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট বাংলাদেশ সকলশ্রেণীর হিন্দুদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অধিকারের পক্ষে কথা বলা ও কাজ করার লক্ষ্যে বিগত ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠা হয় এবং সেদিন থেকে আজ অবধি একই লক্ষ্য নিয়ে এই সংঘটনের নেতা ও কর্মীরা কাজ করে আসছেন।

সংগঠনটির দীর্ঘ পরিক্রমায় বিভিন্ন সময়ে সারাদেশে হিন্দুদের উপর সংঘটিত যেসব অপরাধ ও নির্যাতন মূলক ঘটনা ঘটেছে, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট চেষ্টা করেছে এর বিপক্ষে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সমাবেশ করতে এবং সেসব কাজগুলো এখনো করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দায়িত্বের সাথে করে যাবে। ।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট বাংলাদেশে প্রচলিত কোন রাজনৈতিক দলের তাবেদারী করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। এটি কোন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের অবিচল লক্ষ্য – “স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে ও দেশের সংবিধানের আলোকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কথা বলা এবং সর্বদা সোচ্চার থাকা”।  এরই প্রত্যয়ে গত ২০০৬ সালে এর যাত্রা চালু হয়েছিল।

সময়ের পরিক্রমায় বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের প্রায় সব ক’টি জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা স্তরে কমিটি গঠিত হয়েছে এবং তৃনমূল পর্যায়ে যতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে চলেছে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করা গেছে  এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন মাত্র ব্যক্তির একঘোয়েমি, স্বেচ্চাচারিতা, ব্যবসায়ী মনোভাব, ব্যক্তিস্বার্থ চিন্তার কারণে আজ পর্যন্ত এই সংগঠনটি শক্তিশালী অবস্থানের অবস্থানে দাঁড়াতেপারেনি। মাত্র একজন নেতার স্বেচ্ছাচারিতা, নৈতিক স্খলন, এক কর্মীর বিরুদ্ধে অন্য একজনকে লাগিয়ে দেয়া, অর্থ নিয়ে পদায়ন করা ইত্যাদি কারণে এ সংগঠনটি বারংবার ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। এসবের  পেছনে মাত্র একজন লোকই বরারব দায়ী ছিল এবং এখনো আছেন এবং  তিনি হলেন – “গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক” যিনি প্রতিষ্ঠা কালীণ সময় থেকে ১৬ জানুয়ারী’২০২০ অবধি সংগঠনের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের ব্যর্থ নেতৃত্বের কারণে গত ২০১৫-২০১৬ সালের দিকের সংগঠনের সাংগঠনিক কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়ে এবং তিনি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির নিকট মৌখিক ভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ভুল সংশোধন করে চলবেন এবং এরই প্রেক্ষিতে গত ২০১৬ সালে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সংশোধিত ও পূনর্গঠিত হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে ব্যক্ত করতে হচ্ছে যে, ২০১৬ সালে পূনর্গঠিত কমিটি সেই পূর্বের মতো আজ অবধি সুচারুরুপে কাজ করতে পারেনি, এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) জয়ন্ত কুমার সেন সেই ২০১৬ইং সাল থেকে নিস্ক্রিয় অবস্থানে ছিলেন এবং ২০১৮ সালে সর্বশেষ উনি বলে দিয়েছেন সভাপতি হিসেবে যেন তাঁর নাম ব্যবহার না করা হয়।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট – জামায়াত ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির পক্ষে কাজ করছে এমন অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। সংগঠনের মহাসচিব এডভোকেট গোবিন্দ প্রামানিক সরাসরি যুক্ত বলে লোকশ্রুতি রয়েছে। ফলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যবৃন্দ নানা ক্ষেত্রে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছে ও প্রশ্নের সম্মূখীন হয়েছে। যদিও এ সংগঠন কারো তাবেদারী করবে না বলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১৬/০১/২০২০ইং তারিখের সভায় সার্বিক বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষনের জন্য কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত সকল সদস্য নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্ব স্ব বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এতে সকলের বক্তব্যে যে সকল বিষয় উঠে এসেছে সেগুলো সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো-

০১)   ক্ষমতা কুক্ষিগতকরণ ও একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া : সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় শুধুমাত্র  কমিটির সদস্যদের থেকে টাকা-পয়সা সংগ্রহের বিষয় ব্যতিত অন্য বিষয়ে আলোচনা করা হয় না।  সংগঠনের মহাসচিব ও প্রধান সমন্বয়ক যে সিদ্ধান্ত নেন তা কার্যকর করার জন্য টেলিফোনে অন্যদের অবহিত করেন। এমনকি তিনি ততকালীন মাননীয় সভাপতি ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব) জয়ন্ত কুমার সেন মহোদয়ের মতামত জানারও প্রয়োজন মনে করতেন না। শুধু মাত্র আলংকারিক পদ পদবীতে রেখে কিংবা অডিয়েন্সে লোকজন জড় করার জন্য কার্যনির্বাহী কমিটিকে ব্যবহার করেন।  যা কার্য নির্বাহী কমিটির সকল সদস্যদের নিকট লজ্জা ও হতাশা জনক।

০২)   জামায়াত, স্বাধীনতা বিরোধী ও উগ্র মৌলবাদী শক্তির সাথে কানেকশনঃ  মহাসচিব এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের সাথে জামায়াত ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির হাইকমান্ডের সাথে সম্পর্ক – এমন অভিযোগ দীর্ঘ দিনের হলেও এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক সব সময় অস্বীকার করে এসেছেন। তবে এটি প্রমানিত সত্য যে সংগঠনেরর কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় অস্বীকার করলেও তিনি সদা সর্বদা জামায়াত ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির প্রসংশা করে থাকেন। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বিপক্ষে কথা বলেন এমনকি তিনি বঙ্গবন্ধুকে নিয়েও নানান সময় কটূক্তি করেন। বিষয়টি কার্যনির্বাহী কমিটি সদস্যরা বিভিন্ন সময় বিরুক্তি প্রকাশ করেছে। তথাপি তিনি এসব ব্যাপারে সতর্ক হননি, বরং তার স্বভাব সুলভ আচরন অব্যাহত রেখেছেন। এ ছাড়াও সম্প্রতি সময়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিসরূপ এমন উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠির সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে।

০৩)   আর্থিক অনিয়ম : সংগঠনের সকল সদস্য কম বেশী মাসিক চাঁদা প্রদান করেন। এছাড়ও সময়ে সময়ে অনুষ্ঠিত কর্মসূচীর ব্যয় নির্বাহের জন্য আলাদা ভাবে ধার্য্যকৃত চাঁদার অর্থ প্রদান করা হয়। আজ অবধি এসব আয় ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করা হয়নি। হিসাব প্রকাশের ক্ষেত্রে মহাসচিব ও প্রধান সমন্বয়কের অনিহা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে।

০৪)    কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ ও পদবীর বিনিময়ে অর্থ গ্রহণঃ কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী কমিটির অনুমোদন কিংবা অবগত করানো ব্যতিত বিভিন্নজনকে পদ ও পদবীর বিনিময়ে সরাসরি নগদ অর্থ গ্রহন করে থাকেন সংগঠনের মহাসচিব এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক। তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কার্যকরী কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে এককভাবে নতুন কমিটি অনুমোদন দিয়ে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাদ ও সংঘর্ষ সৃষ্টি করেছেন।

০৫)   ব্যক্তিরনামে বাণিজ্যিক লোগো রেজিষ্ট্রেশন: সংগঠনের মহাসচিব এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক  সংগঠনটি রেজিষ্ট্রেশনের নামে কার্যনির্বাহী কমিটি বিভিন্ন সদস্যদের নিকট থেকে নগদ অর্থ গ্রহন করেছেন, অথচ সংগঠনটি আইনী ভাবে নিবন্ধন না করে ট্রেডমার্ক কর্তৃপক্ষ থেকে শুধুমাত্র মার্চেন্ট কোম্পানী হিসেবে লোগো রেজিষ্ট্রেশন করিয়েছেন তবুও সেটি তাঁর ব্যক্তিগত নামে।

০৬)   স্বেচ্ছাচারিতা ও ফেসবুক লাইভ: মহাসচিব এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক কার্যনির্বাহী কমিটি তথা কেন্দ্রীয় কমিটিকে অন্ধকারে রেখে বাংলাদেশের অকৃত্তিম প্রতিবেশী বন্ধু ভারত সরকারের আভ্যন্তরীণ   সিএএ, এনআরসি ও আযোধ্যার রামমন্দিরের রায়ের মত স্পর্শকাতর বিষয়ে অনাহুত নিয়মিত আলোচনা সমালোচনা ও কটূক্তি করে সন্দেহের বাতাবরণ সৃষ্টি করে শান্তি ও উভয় দেশের মধ্যে সম্প্রীতির পরিবেশকে কলুষিত করে চলেছেন, যা দেশীয় ও আন্তর্জাকিত পর্যায়ে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

০৭)   সংগঠনের কর্মীদের বিপদে এগিয়ে না আসাঃ সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নেতা কর্মীরা আইনি ঝামেলা কিংবা সাংগঠনিক কারণে বিপদে পড়লে তাদেরকে সহযোগীতার করার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে থাকেন মহাসচিব এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক। বিভিন্ন কর্মী সভায় তিনি নিজে অপ্রাসঙ্গিক ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মীদের উস্কে দেয়, অথচ ফলশ্রুতিতে অতি উৎসাহী ঐ সব নেতা কর্মী ঝামেলায় পড়লে তিনি সহযোগীতা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

০৮)   একাধিক সংগঠনের জন্মঃ মহাসচিব এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের প্ররোচনায় সংগঠনটি ব্যবহার করে সমন্বয়ক বিজয় ভট্টাচার্য্য ব্রাহ্মন সংসদ নামে অন্য একটি সংগঠন তৈরি করেছেন, যেটি জাতপাত প্রথাটি উস্কে দিয়েছে যা, হিন্দু মহাজোটের আদর্শের পরিপন্থি এবং সামগ্রিক হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

০৯)   সাংগঠনিক কর্মসূচী বিক্রয়ঃ বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট কর্তৃক আয়োজিত সময়ে সময়ে অনুষ্ঠিত মানব বন্ধন, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ কর্মসূচী, কিংবা সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রায় সকল কার্যকরী কমিটির সদস্যদের নিকট থেকে (কর্মসূচী ভিত্তিক আলাদা আলাদা ভাবে) নগদ চাঁদা আদায় করা হয়। অথচ মহাসচিব গোবিন্দ্র চন্দ্র প্রামানিক উক্ত কর্মসূচীর ব্যয় নির্বাহের নামে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র থেকে অর্থ গ্রহন করেছেন পর্দার অন্তরালে।  বিষয়টি প্রথম দিকে সন্দেহের মধ্যে থাকলেও নিশ্চিয় হওয়া যায় – যখন দেখা যায় যে চলমান কর্মসূচীর মধ্যে জামায়াত ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির নেতা উপস্থিত হতো। এরফলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

গত ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ইং তারিখে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কার্যনির্বাহী কমিটির অধিকাংশ সদস্য একটি সভায় মিলিত হয় এবং উন্মূক্ত আলোচনায় উপরোল্লিখিত অভিযোগগুলি বিপরীতে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য এডভোকেট গোবিন্দ প্রামানিককে  লিখিতভাবে বলা হয়। কিন্তু তিনি কোন একটি অভিযোগেরও সদুত্তর দিতে পারেননি।

গত ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ইং তারিখের সভার ধারাবাহিকতায় গত ১৬/০১/২০২০ইং তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্ব সম্মতিক্রমে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তগুলো গৃহিত হয়।

সিদ্ধান্ত-০১:    বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কার্যনির্বাহী কমিটির মতামতকে সদা সর্বদা অগ্রাহ্য করে বিভিন্ন সময়ে সংগঠনের আদর্শ ও স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকা, আর্থিক অনিয়ম, সংগঠনের নামে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে চাঁদা আদায় ও নানা ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিককে বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব পদে হতে অব্যাহতি দেয়া হলো। তাঁর এ শূন্যপদে ডাঃ মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টকে মহাসচিবের পদ তথা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদায়ন করা হলো।

সিদ্ধান্ত-০২:    বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট এর প্রধান সমন্বয়ক পদটি বিলুপ্ত করা হলো। বিজয় ভট্টাচার্য্য যেহেতু বাংলাদেশ ব্রাহ্মন সংসদ নামে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নতুন একটি সংগঠনের কর্ণধার, সেহেতু তিনি বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সাধারণ সদস্য পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন এবং তাঁকে (বিজয় ভট্টাচার্য্য) বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সকল সাংগঠনিক কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো।

সিদ্ধান্ত-০৩:    এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক দীর্ঘ দিন যাবত সংগঠনের মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে দায়িত্ব পালনের সময় তাঁর বিরোদ্ধে আনিত অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়গুলোর তদন্ত করার জন্য সংগঠনের সমন্বয়ক তারক পদ রায় (এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট) কে প্রধান করে, লায়ন বিমল কৃষ্ণ শীল, রাম কৃষ্ণ বিশ্বাস (এডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট) এবং ডাঃ হেমন্ত কুমার দাস সহ চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সুপারিশ ক্রমে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট কার্যনির্বাহী কমিটি তাঁর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি নিজের মত করে কার্য নির্বাহী কমিটির মতামত না নিয়ে সংগঠনের গঠনতন্ত্র সম্পাদনা করে নিজের স্বৈরতন্ত্রিক ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করেছিলেন। অচিরেই এই গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উত্তম কুমার দাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, হিন্দু মহাজোটের সাবেক সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জয়ন্ত কুমার সেনের স্থলাভিষিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্তু সভাপতি ডঃ সোনালী দাস, সিনিয়র সহসভাপতি লায়ন বিমল কৃষ্ণ শীল, সহসভাপতি তপন কুমার হাওলাদার, চিন্ময় মজুমদার, মিঠু রঞ্জন দেব, সাধন চন্দ্র মণ্ডল, বিষ্মভর কুমার নাথ, অধ্যাপক দিলিপ মজুমদার, সুশীল পাইক, সমন্বয়কারী অ্যাডঃ তারক চন্দ্র রায়, নব দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাসচিব তথা সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু যুব ময়াহজোটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও বর্তমান আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রিপন দে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ হেমন্ত কুমার দাস, সঞ্জয় ফলিয়া, লিটন নন্দী, এডভোকেট উদয় বসাক, এডভোকেট রামকৃষ্ণ বিশ্বাস, সুশীল মিত্র, ইঞ্জিনিয়ার সৌমিত্র সরদার, তথ্য ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক আরুন চন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্রমহাজোটের প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমান যুব বিষয়ক সম্পাদক সমিরন বড়াল, সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বিজন সানা, চিকিৎসা বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ কথক দাস, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী সুজন ভৌমিক, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক কার্তীক চক্রবর্তী, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট বনরূপা রায়, কার্যকরী সদস্য গৌতম হালদার প্রান্ত, সুশান্ত কুমার, প্রতিমা রানী দে, দুলাল চন্দ্র ঘোষ, ঢাকা জেলার নির্বাহী সভাপতি সুকুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক গোপাল পাল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তপন বর্মন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন সরকার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নীলকমল বর্মন, দপ্তর সম্পাদক সুমন কর্মকার, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি প্রবীর হালদার ও সাধারণ সম্পাদক শুকদেব বড়াল প্রমূখ।

সম্পুর্ন প্রেস কনফারেন্স পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

Please follow and like us:

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here