আমি জন্মেছিলাম বলে

আমি জন্মেছিলাম বলে
——————————————–
দেবদাস কর্মকার

আমি জন্মেছিলাম ফাল্গুনী চতুর্দশীর রাতে
স্যত স্যাতে পিছল মায়াবী আঁতুড়ঘরে
শীতার্ত জ্যোস্নায়,তুষের আগুনের গন্ধে, পুঁচকে শরীরে
হোগলার বিছানায়,নাড়ি না কাটা রক্তে একাকার
মাটির সোহাগে,ক্ষুধার্ত চীত্কার, ক্রন্দন ।

সুনসান নীরবতা ফাল্গুন ঝি ঝি পোকা হাওয়া
অরণ্য নদী ঘেঁষা গ্রাম,স্পর্ধিত ঢেউয়ের ক্রমাগত শব্দ
সবকিছু মিলে মিশে একাকার হাসি কান্নার অপূর্ব মিশেল ,
গ্রামীণ নিম্ন মধ্যবিত্তের অকস্মাত্ আনন্দ বিন্দুর মানব শিশু ।

আমি জন্মেছিলাম সেই রাত ধানের তুষ পোড়া ধোয়া, অন্ধকার,
হঠাত্ ভিজে হাওয়া,গোয়ালে দুধ খেকো সাপের উতপাত,
আমার পিতামহ পিতামহীর বিত্তহীন আনন্দের আতিশয্য,
চাপ চাপ অন্ধকারে ক্ষীয়মান কুপিবাতির ভুতুড়ে আলোর সাথে যুগলবন্দি,
অনভিজ্ঞ দাইয়ের হাতে ক্রমাগত চিত্কারে আচ্ছন্ন নতুন অতিথি ।

আমি জন্মেছিলাম ফাল্গুনের চতুর্দশীর মধ্য রাতে
পৃথিবীর অজ্ঞাত অসংখ্য জন্মনেওয়া মানব মিছিলের শেষ প্রান্তে
বোধ বিভেদহীন আলোর ভিতরে অদ্ভুত সৃষ্টি ।

আমি জন্মেছিলাম রূপন্তী পৃথিবীর বুকে ছুটে আসা বিচ্ছুরিত আলোর কণার ভিতরে
যেখানে সন্ধ্যা নদীর ঢেউয়ের শব্দে কূলভাঙা আর্তনাদ,
উঠানের কোল ঘেঁষে মাটির ডোয়ায় চিত্রিত মহাকাল চক্র,
দূরে সময়ের বুক চিরে ক্রমাগত ক্ষীয়মান শব্দ, লঞ্চ ষ্টেশনের শেষ হূইশেল
ইতিহাসের বিভক্তির বিদ্রূপ, দুর্বল কন্ঠ রূদ্ধ উপদ্রুত কূল,
দোদুল গতিছন্দে মৃত্যুর দিকে পিঠ ফিরে দেখতে চেয়েছিলাম দূরের আকাশ
টলমলে সম্মোহনে গভীর ঘুমের ভিতর
জন্ম মৃত্যুর কোলাহল ছেড়ে দূরে কোন এক মায়াবী জ্যোস্নায়,
চতুর্দশীর ফাল্গুনী রাতে জন্মেছিলাম বলে ধোয়ার ভিতরে ছিল রহস্যের চীত্কার
জন্ম মৃত্যুর মানব মিছিলে, আমি জন্মেছিলাম বলে ।

ঢাকা । 20/02/2020

Please follow and like us: