32 C
Dhaka
Friday, May 20, 2022
Google search engine
প্রথম পাতাঃফিচারকে রক্ষা করবে এই আত্মহত্যাপ্রবণ জাতিকে?

কে রক্ষা করবে এই আত্মহত্যাপ্রবণ জাতিকে?

করোনাভাইরাসের আতংকে যখন বাংলাদেশ আতংকিত, সেখানে লকডাউন ভেঙে আল্লামা যুবায়ের আহমেদ আনসারীর জানাজায় জনতার ঢল। বিশ্বনন্দিত মুফাচ্ছিরে কোরআন শায়খুল হাদিস শায়খ আল্লামা হাফেজ যুবায়ের আহমদ আনসারী সাহেবের জানাজায় হাজার-হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ। তার জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায়। করোনার এ মহামারীও থামাতে পারেনি এতো মানুষের অংশগ্রহণ। কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে জনতার ঢলে। মারাত্মক সংক্রমণের আশংকা রয়েছে এখান থেকেই। এখন এর দায় দায়িত্ব কে নিবে?

এই জানাজায় অংশগ্রহণের আহবান জানানো হয় ফেসবুক স্ট্যাটাস, অনলাইন নিউজ ও মাইকিং এর মাধ্যমে। সেসব জায়গায় জনগণ যেন নির্ভয়ে আসে যেজন্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “এ বিষয়ে শায়খ সাজিদুর রহমান প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, প্রশাসন লোক সমাগম ঠেকাবেন না।“

ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে লকডাউন ভেঙ্গে আয়োজিত জানাজায় জনতার ঢল

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভয় কে দিলেন? কোন মহামানবের নির্দেশে উনি দিলেন?এই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউই কি দেখতে পান নাই কি ভীষণ মহাপ্রলয় আসন্ন? উনাদের কাছে আমার প্রশ্ন, কি করে চুপ থেকে এড়িয়ে গেলেন আপনারা?

বাংলাদেশ এখন মারাত্মকভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছে। চিকিৎসকেরা হিমসিম খেয়ে যাচ্ছেন রোগীর সেবা দিতে দিতে। মানুষ গৃহবন্দী, কাজ নেই বলে না খেয়ে মরে যাবার ভয়ে দিন রাত আশংকায় পার করে যাচ্ছেন। প্রশাসন মাঠে ২৪ ঘন্টা দৌড়ে বেড়াচ্ছে মানুষকে ঘরে রাখতে গিয়ে।

সেখানে যদি এমন নির্বোধের মত কান্ড ঘটিয়ে ফেলে একদল মানুষ, সেটা দেখে নিজের নিশ্চিত মৃত্যুর দিন গোনা ছাড়া আর কোন কাজ থাকবে না দেশের মানুষের। এমনি বাংলাদেশ অনেক ঘনবসতিপূর্ণ দেশ, তার ওপর এভাবে নিয়ম না মেনে গায়ের জোরে যদি মানুষ বাইরে বেরিয়ে এসে গণজমায়েত করে তাহলে কে রক্ষা করতে পারবে এই আত্মহত্যাপ্রবণ জাতিকে?

একদল গন্ডমূর্খ বলছেন যে আমরা স্রষ্টার উপাসনা করলেই সুরক্ষিত থাকব, সংক্রামক রোগ বলে কিছু নেই। এদের কি তার স্রষ্টা রক্ষা করতে চাইবেন? ট্রেন লাইনে মাথা দিলে আমার মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও যদি রেল লাইনে বসে ঈশ্বরের নাম নিতে থাকি, তাহলে কি কেউ আমাকে বাঁচাতে পারবেন? কেন চাইবেন বাঁচাতে?

এর আগে মার্চ মাসে লক্ষীপুরে গণজমায়েত করে দোয়া মাহফিল করা হয়, ট্রেনে হাজার হাজার লোক গা ঘেঁষে বাড়ি ফিরল, বাজারে এখনো দেখা যায় কত মানুষ, ভাবটা এমন যেন কিছুই হয়নি। আসলে দীর্ঘদিনের মূর্খতা আর সচেতন না হতে চাওয়ার তীব্র ইচ্ছে এই জাতিকে এমন করে ফেলেছে। অনেক দিন ধরে চলে আসা অন্ধকার থেকে উঠে আসা সংস্কার আর গোমূর্খ নেতাদের কারণেই আজ আমাদের দেশের মানুষ কীট পতঙ্গের মত মরতে যাচ্ছে আগুনে ঝাঁপ দিয়ে।

প্রতিষেধক আবিস্কার এখনো হয়নি, নেই কোন সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি, সীমাবদ্ধতা রয়েছে চিকিৎসা সেবা দানের ক্ষমতার, সেখানে আমাদের এমন সিদ্ধান্ত যেন গণ আত্মহত্যায় রুপ নিতে যাচ্ছে খুব দ্রুত। দুই মাস আগে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এক প্রভাষক ও তার সাথে আমেরিকার জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যলয়ের একজন প্রভাষক সহ চার জন গবেষক অংক কষে পই পই করে দেখিয়ে দিয়েছেন আমাদের দেশে কম পক্ষে পঞ্চাশ লক্ষ লোক মরতে যাচ্ছে। এর পরেও যদি এমন ঘটনা ঘটতেই থাকে, তাহলে এই সংখ্যা কয়েকগুণ হতে সময় নেবে কয়েক মুহূর্ত।

Please follow and like us:
RELATED ARTICLES

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments

Translate »
%d bloggers like this: