33 C
Dhaka
Friday, May 20, 2022
Google search engine
প্রথম পাতাঃফিচারক্যান্সারের সাথে যুদ্ধে হার মেনে অসময়ে চলে গেলেন অভিনেতা ইরফান খান

ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধে হার মেনে অসময়ে চলে গেলেন অভিনেতা ইরফান খান

দীর্ঘদীন ধরেই আক্রান্ত ছিলেন নিউরো এন্ডোক্রাইন টিউমারে। এই টিউমার পরে ক্যান্সারে রুপে নেয় ২০১৮ তে। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই চালিয়ে গিয়েছেন অভিনয়। ভর্তি হয়েছিলেন মুম্বাইয়ের কোকিলাবেন ধিরুভাই আম্বানী হাসপাতালের নিবিড় নিরিক্ষণ বিভাগে কোলন ইনফেকশনের উপসর্গ নিয়ে। আজ সকালেই সবাইকে ছেড়ে ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে চলে গেলেন। মাকে হারিয়েছেন মাত্র তিন দিন আগেই। বাইরে থেকে অনেক শক্তিশালী ছলেন বলেই এত বড় একটা অসুস্থতার সাথে লড়াই করে টিকে ছিলেন এবং অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এত দ্রুত যে তার সময় ফুরিয়ে আসবে কেউ কি জানত?

তার মৃত্যুতে শোকাহত পুরো বিশ্বের অগণিত ভক্ত, সহশিল্পী, ও নির্মাতাগণ।

ইরফান খানের বিদায়ে অমিতাভ বচ্চনের টুইট

১৯৬৭ সালের জানুয়ারী মাসের ৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন জাগিরদার খান ও বেগম খানের ঘরে। ভালো ক্রিকেট খেলোয়ার হিসেবে নাম করে নিয়েছিলেন, ইচ্ছা ছিলে দেশের জন্য ক্রিকেট খেলবেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের বাছাই এর ধাপে গিয়ে ছড়ে পড়লেন টাকার অভাবে। এরপর বেছে নিলেন অভিনয়ের পথ। ১৯৮৪ সালে অভিনয়ে পড়ার জন্য বৃত্তি পেলেন দিল্লির “ন্যাশনাল স্কুল অফ এক্টিং” এ। এরপরে নিজেই ইতিহাস তৈরী করতে শুরু করলেন। “পান সিং তোমার” এ অভিনয় করে জিতলেন ভারতের শিল্পীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সম্মান, “পদ্মশ্রী পুরষ্কার”।
বাংলা হিন্দি ইংরেজী এই তিন ভাষার সিনেমার নিয়মিত দর্শকের কাছে ইরফান খানের জনপ্রিয়তার মাপকাঠিটা অন্যরকম। এর বাইরেও অনেক ভাষার ছবি তিনি করেছেন। হলিউডে ভারতীয় অভিনেতাদের মধ্যে অনেক বেশি পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। কাজ করেছেন অস্কারজয়ী সিনেমা “স্লামডগ মিলিয়নিয়ার”, “লাইফ অফ পাই” এর মত সিনেমা থেকে শুরু করে “জুরাসিক ওয়ার্ল্ড”, “এমেজিং স্পাইডারম্যান” সিনেমাতেও। বাংলাদেশের মুস্তাফা সারোয়ার ফারুকীর পরিচালনায় করেছিলেন “ডুব”। বলিউডের “লাঞ্চবক্স”, “নেমসেক”, “কারওয়ান”, “পিকু” সহ আরো সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে মাতিয়ে রেখেছিলেন দর্শকদের। বলিউডের গতানুগতিক সিনেমার সীমা ভেঙে সাহস করেছিলেন নতুন ধারার সিনেমা করে মানুষের কাছে পৌছানোর। তার শেষ চলচ্চিত্র “আংরেজী মিডিয়াম” সাড়া ফেলেছে মুক্তির কয়েকদিনের মধ্যেই। এর বাইরে অস্মাপ্ত কাজ ছিল, “Takadum” এবং “Wicked path” । ইরফান খানকে নিয়ে লিখতে গেলে অনেক কিছুই লিখতে হবে, শেষই হবে না তার অভিনয়ের প্রশংসা। নিজের জীবনে সব মিলিয়ে ৩৮ টি পুরস্কার ও মননীত হয়েছেন ৫৩ টি পুরষ্কারের জন্য।
মাত্র ৫৪ বছরের এক সংক্ষিপ্ত জীবনে কর্মের দ্বারা হয়ে উঠেছিলেন অনন্য। আমাদের সবার পক্ষ থেকে তার বিদেহী আত্মার জন্য শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই।

Please follow and like us:
RELATED ARTICLES

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments

Translate »
%d bloggers like this: