বৃত্তহীন অভিসারে —- দেবদাস

কর্মকার আলোছায়া মেখে জানালার ওপাশে নদী অদ্ভুত আঁধারে, তার পায়ের উপরে বৃষ্টি এই মধ্য রাতে, বৃষ্টিস্নাত সবুজ একটি নাম গেথে গেছে মনের ভিতরে, কেমন করুণা মাখানো সরল চোখ বিমূর্ত অবয়বে, এই মধ্য রাতে একটি ফুল কেমন যেন সুগন্ধি ছড়াবে, যার বোটার নিচে আছে দুটি কবন্ধ নতুন পত্র গুচ্ছ ।
আবদ্ধ গৃহ সজ্জার টবের শিকড়ে কোন জল নেই তবু বেঁচে আছে একটি স্বপ্ন বৃক্ষ জানালার পাশে, কোন এক অলীক স্পর্শ লেগে ছড়ায় সুগন্ধি নির্যাস অচেনা আলোর মতো সেই সব ভালোবাসা, ঘন কালো মেঘের মতোন কোন এক উদাসীন রাতে, নারী, পায়ের উপরে বৃষ্টির সুর শ্রাবণের ঝরা জলের মতোই ঝরে।
আকাশ যেখানে দূরে আর এক পৃথিবী রহস্যময়ী হয়ে অলক্ষ্যে, যেন বার্তা রটে গেছে স্বর্গ মর্ত্য ছেয়ে অরণ্য পাহাড়ে, সুনীল জলের ঢেউয়ের সাগরে নিবিড় গোপনে প্রেমে পতনে কতোটা বৃত্তহীন অভিসারে।
বিদ্যুত জেগেছে মেঘের ভিতরে চকমকি আলো জ্বেলে সমীক্ষা হীন শিকড় সঞ্চারী নারী বাতাসে ভাসিয়ে চুল, ঝুল বারান্দায় বেঁচে আছে নক্ষত্রের বহু আলোক বর্ষ দূরে ,নতজানু ভারাক্রান্ত পৃথিবীর হাতলে মাথা রেখে নিরবে দাড়িয়ে অদৃশ্য দিগন্ত ছোঁয়া কষ্টের ভিতরে।
সমুদ্র ডেকেছে তাকে বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়ার ওপারে,যা ছিলো আপনার মতো করে কিছু নেই আজ ঘোর সংসার স্বপ্ন স্বার্থ বেদনার স্বাদ সব বিস্বাদ জেনে, আকাশের ছাঁদ ঘিরে কেবলই অন্ধকার, এই মধ্যরাতে ঠিক যেন তার দ্বিতীয় মৃত্যু আর আত্মহত্যার আগে, কোনো একটি ফুল ছড়াবেনা কোনো সুগন্ধি কোনো দিন অবাক বিস্ময়ে।
০৭/০২/২০২০ ঢাকা। আলোকচিত্র- পুটিয়া পঞ্চরত্ন গোবিন্দ মন্দির। টেরাকোটায় কারুকার্যময়। নির্মান কাল আনুমানিক ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দ। চিত্র গ্রহণ-অয়ন।
Please follow and like us: