শিকড়বিহীন অর্ধ জীবন —– দেবদাস কর্মকার

অলকানন্দা বেলী ঝুলে আছে টবের শরীরে, কানাগলি দিয়ে হাওয়া চলে আসে, দোলখায় খুশি ঝুল বারান্দা,কি নিদারুণ বিশ্বাসে স্থির হয়ে যায় হৃদয় জাহাজের উঁচু মাস্তুল,কাদামাটি মাখা একটু জীবনে চকিত আলো ঢেকে দেয় মেঘ, নিভৃত আঁধারে সূর্য শরীর, তবু অরুণিত প্রতিটি সকাল দিয়েছে আমাকে প্রগাঢ় তরঙ্গ, অর্ধেক জীবন এনেছে টেনে ধীরে কর্ম মুখরিত মানুষের ভিড়ে।
ছাঁদের উপরে যে আকাশ পারেনা যেতে হেমন্তের মাঠে, ধানের ছড়ার নিচে মাটির ভিতরে ঘুঘরার সেই নিমীল জীবন, পাটিতা বনের ম্লান আঁধারে ফুটে আছে ক্ষুদে হাতিশূর ফুল, সেখানে যে মধু আছে, ঠিক জানে তা মৌপোকা দল,অর্ধেক জীবন ঝুলে আছে যেন টবের মতোন,কতো কিছু জানা নেই তার অসম্বদ্ধ খোড়োখাতা জুড়ে,জানা নেই তার প্রাগৈতিহাসিক পুরুষের কথা, যাঁরা কানাকড়িহীন অরণ্য দিনে নিপুন চাষার মতো বুনেছিলো বীজ পৃথিবীর মাঠে, তারপর নোনাশাক তুলে জেগে ছিলো প্রেম ভরা জ্যোস্নায় মানবীকে ঘিরে।
আজ পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের ভীড়ে অরণ্য পারেনা যেতে হেমন্তের মাঠে,যারা জন্মেছিলো একদিন শান্ত গাঁয়ের মাটির উপর, বিষাক্ত নগরী নেবেনা তাদের, ছোবড়ার মতো পড়ে আছে যেন স্মৃতিভূক সব বেদনার সাথে,কতো আনন্দ দুঃখের বোধ ঝুলে আছে বটের লতার মতোন,আবার কখোন উঠেছে বেড়ে , অলকানন্দা বেলী ছেয়ে আছে টবের শরীরে, অরুণিত যেন প্রতিটি সকালে শিকড় বিহীন অর্ধ জীবন।
১৬/১০/২০২০ ঢাকা। ৩১ আশ্বিন ১৪২৭
Please follow and like us: