কুয়াকাটা ————– দেবদাস কর্মকার

ম্লান অন্ধকার ভেঙে চাঁদ উঠেছে জেগে আকাশের কোলে,নিচে অনন্ত সমুদ্র মাঝখানে হিম পূর্ণিমা
আকাশের ক্যানভাসে কে যেন গাঢ় করে মেখেছে সোনা রঙ, তাই বুঝি এতোবড় অবয়বে এসেছে চলে পৃথিবীর কাছে, ছোট ছোট ঢেউ নিয়ে সাগর ডেকেছে তাকে কুমারী মেয়ের মতো,ধূসর সবুজ শাড়ি তার ঝাউয়ের পাতার মতো ভালোবেসে।
পৃথিবীর শেষ মৃত্তিকা আমাকে দিয়েছে যে ঠাঁই
কখনো হয়নি মনে জলের ভিতরে যদি ডুবে যাই
এই ভর সন্ধ্যায় একা একা কোথায় এসেছি নেমে
হৃদয়ে ফলেছে স্বপ্ন তবু বিষন্নতা কি আছে থেমে!
আজ রাস উত্সব নারকেল বন থেকে দূরে আলোয় ভরানো মেলা,এখোনো পাকেনি ধান কার্ত্তিকের জ্যোস্না ভরা মাঠে,মাচার আড়ালে সুতোর বুনুনি ফেলে সব রূপশীরা মিলেছে শিশিরের শীতে,শতাব্দী প্রাচীন রাখাইন পল্লী জুড়ে শুধু রং, এমনই নিপাট শরীর তাদের বিধাতা গড়েছেন হাতে।
সব উত্সব ফেলে বাতাস আড়াল করে বিমূর্ত ভঙ্গিতে তুমি, জ্যোস্নায় ডুবে আছো ছায়া আধারের ধ্যানে, যেন কতো রাত কেটে যাবে হৃদয়ের বোধ সৌন্দর্য সাগরের জলে,অসংখ্য নক্ষত্র নিচে নেমে সাজাবে তোমার অনুপম মুখ,পুরনোরাও দেখেছে সেই সব রূপ লাল কাকড়ার বনে,মাটির চরের উপরে নারকেল ফুল ঝরে আছে ভরা জ্যোস্নায়।
সেই সব তারুণ্য বেলায় যেন ঘাস ছুঁয়ে ছুঁয়ে তুমি নেমেছিলে একা,এমনি আধার সন্ধ্যায় পুকুরের জলে জেগে ছিলো ছায়া জ্যোস্নার ঢেউ, বাতাস আড়াল করে সম্মুখে দাড়িয়ে এক মোমের শরীর, স্বপ্নের উঠানে হয়নি দেখা তার বেদনার ভূত,
বাসক পাতার মতো সবুজ সেই তরুণী হৃদয় ভীষণ নরোম হাতে রাখে তার হাত,
সরবতি লেবুর থোকা নিবিড় ছায়ায় নিচে ঝুলে আছে ঘাসে, খড়ের গাদার থেকে উর্ধো মুখি তার চোখের পলক শান্তির মতো শুকতারাটির কাছে,যেন কোনো অবসাদ নেই আর।
নিমের গভীর থেকে টুপটাপ ঝরে পড়ে ফল,সুপারির কাঁদি বেয়ে বাদুরের দল খেয়েছে রঙিন রস,তার পর বন থেকে বনে উড়ে যায় রাত জাগা ডানা,নিশাচর যত পাখি সব, কতো ভয় তোমার মুখের মায়া ছায়ার উপরে মসৃন,
সময়ের শ্রেয়তর মৃত্যু তোমার চোখের ভিতর, সমুদ্রের নোনাজল, অবাক বিস্ময়ে পড়ে থাকে ছেড়া দ্বীপ, কে দিয়ে গেলো এই নির্জন রূপ!
মহিপুর থেকে হাওয়া আসে অবকাশে সহসা হারিয়ে যায় সব,অতীত মরেছে কবে খেপুপাড়ার বুনোপথে,চুপিচুপি ডুবে যায় চাঁদ, রাস উত্সব পড়ে থাকে দূরে যেন মকরক্রান্তির রাত,সব পূণ্য ডুবে আছে জলে,নিরুপম নক্ষত্র বেলা আকাশের কোলে,
সময়ের শ্রেয়তর মৃত্যু তোমার চোখের ভিতর, এখোন পড়েনা মনে আর,সমুদ্রের ওপারে তাকালে সেই সব সৌন্দর্য আঘাত, সবকিছু হিম হয়ে, সব আনন্দের অবসাদ, স্নিগ্ধ ধানের গন্ধে তোমার ভাস্কর্য মুখ পড়ে থাকে ছেড়া দ্বীপ ছুঁয়ে কার্তিকের জ্যোস্নার ভিতর।
১২/১১/২০২০ ঢাকা ২৭ কার্তিক ১৪২৭
Please follow and like us: