আমাকে আবৃত করে ———— দেবদাস কর্মকার

আমাকে আবৃত করে কতো যে আঘাত
গোলাপি বিহ্বল মেঘ ধুসর বিকেল
পাতার আড়াল থেকে স্নিগ্ধ আলো এসে
জাগায় আমাকে দ্বিধাহীন ঘুমের ভিতর,
দিনরাত পৃথিবীর মানুষের ভীড়ে যেন হয়েছি একাকী,
সড়িয়ে নিয়েছি দূরে তবুও বিপুল ব্যাঘাত,হৃদয় করেছে ভারী।
নদীর জলের স্রোতে পতঙ্গ গিয়েছে ভেসে,তাদের মৃত্যুর শব্দ কখনো শুনিনি আমি,পলির ভিতরে মিশে গেছে দেহ,অসাড় পচা পাতার নিচে সমৃদ্ধ হয়েছে আর এক জীবন, কোলাহলহীন,মৃত্যুর প্রশান্তির মতো তবু নয়,
কবরের নিস্তব্ধতা স্পর্শ করেনা সে মাটি,শুধু ঢেউ এসে বারবার ফিরায় সেখানে প্রাণ।
ভোরের আলোর আগে জেগে উঠি,যতদিন বেঁচে আছি
পতঙ্গের মতো কি তবু নয়!জীবনের মুখ বারবার চেয়ে দেখি,কতো কথা হয় মানুষের সাথে অর্থহীন,অন্য কেউ জাগে আমার ভিতরে,কথা বলে প্রাণে প্রেমে নিভৃত আড়ালে।
কতো কথা হয় মানুষের সাথে, বাজার সদায়,স্বার্থ সমৃদ্ধি,প্রতিধ্বনি হীন সেই সব কথকতা,আমাকে
চেনে না তারা,ভাবে আমি ও তাদের মতো দেহের ছায়ার পিছে চলি কথা বলি,তারপর শব্দহীন আলোড়নে হই একাকী।
অগ্রাণের রাতের আকাশে ঘুমের ওপার থেকে যখোন জাগে অজস্র গ্রহ তারা,আমাকে কে যেন ডাকে নিস্তব্ধ আলোর আড়ালে, মানুষের মতো করে নয়,
সব ভুলে যাই সেই সব গ্লানি অবহেলা কষ্টের আঘাত
পৃথিবীতে এসে কতো মহত্তর অভিজ্ঞতার উত্সব,
সে এসে ধরে হাত বিষন্ন ক্লান্তির মতো করে ভালোবেসে অবসরে।
শিশিরের রাত বুঝি গেছে চলে সময়ের থেকে বহুদূরে,
তার স্পর্শের উত্তাপ আমাকে নিয়েছে ডেকে জীবনের কাছে,নিভৃত মৃত্যুর প্রশান্তির মতো বুঝি সে নয়,
সেই সব প্রিয়তর আশ্রয় আমাকে ব্যথার মতো আবৃত করে কোলাহল হীন অবসরে।
২৪/১১/২০২০ ঢাকা, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
Please follow and like us: