নদীর গল্প

নদীর গল্প
———————————————————————
দেবদাস কর্মকার,
জীবনের কতো দিন গেছে কেটে সন্ধ্যা নদীর পাশে
কুয়াশা মেখে ঘৃতকুমারীর বুনো দূর্বার ঘাসে
শীতের শীর্ণ নদী সারাদিন জেলে মাঝিদের সাথে
জলের গল্প বলে যেন আর জীবনের মালা গাঁথে ।
বটের ছায়ার নিচে আছে সেই প্রশান্ত খেয়াঘাট
খাল পেরুলে শিরীষের পাশে গাঁয়ের সাজানো হাট,
সেই হাটে চলে কতো বিকিকিনী নৌকার সারি সারি
সন্ধ্যা হলেই হাটুরেরা সব ছুটছে যে যার বাড়ি ।
ভূঁইয়া বাড়ি গেছে নদী ভাঙনে বকশিরা বাকী নেই
ছোট গ্রাম সেই কৌড়িখাড়া আরো ছোট আদতেই
পথ চলে গেছে ঘুরে ঘুরে সেই সাজানো সাজানো বাড়ি
ছায়া ঢেকে আছে হিজলে জারুলে কতনা গাছের সারি
মাঝি বাড়ি নেই দীঘি পরে আছে মৃত্যুর কাছাকাছি
দখলে সকলে বুনো ঝাড় জলে কি করে আছে যে বাঁচি
উত্তর বাড়ি দক্ষিন ঘেঁষে, উত্তর ভেঙে ক্ষীণ
পুরনো নতুনে জড়াজড়ি করে গড়েছে স্মৃতির ঋণ।
এপার ওপার বেঁধেছে সাঁকোয় একটি প্রাণের গানে
সুটিয়া কাঠির প্রাণের খবর সোহাগদল তো জানে
নদী পাড়ি দিয়ে স্বরূপ কাঠির খুব বেশী নয় দূরে
কুড়িয়ানার পেয়ারা বাগান আছে তো হৃদয় জুড়ে ।
রূপালী ইলিশ জেলেদের জালে ধরাদেয় ঝাঁকে ঝাঁকে
খোট জাল তবু ভেসে থাকে যেন সন্ধ্যা নদীর বাঁকে
ধনচার বনে সন্ধ্যা নামে জ্বলে জোনাকির আলো
অতি ধীরে আসে কুয়াশা শিশির চরাচর জুড়ে কালো।
এতো প্রাণ আছে এতো প্রেম তবু জীবন জীবনে জুড়ি
অরণ্য নদী আকাশ রৌদ্র করে আছে জড়াজড়ি
চলেছে জীবন মহাকাল ঘেঁষে বদলেছে বাঁক কতো
হৃদয়ে ধরেছে কতো ইতিহাস নদী যে নদীর মতো।
ঢাকা-২০/০৬/২০২০
Please follow and like us:

হালনাগাদঃ