
কৃষি বিপ্লব ও শিল্পায়নের মাধ্যমেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব: শার্শায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মো: আনিছুর রহমান,বেনাপোল প্রতিনিধি:
দেশের কৃষি খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বেকারত্ব দূরীকরণে নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৭ এপ্রিল) যশোরের শার্শা উপজেলার ঐতিহাসিক ‘উলাশী জিয়া খাল’ পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া বেলা ১১.৪৫ মিনিটে জিয়া খালের ফলক উন্মোচন করেন। এরপর তিনি সরাসরি খালের ভিতর নেমে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে ভরে শ্রমিকদের মাথায় তুলে দিয়ে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি খালপাড়ে একটি বৃ রোপণ করেন।
এসময় জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিগত ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটি খনন করেছিলেন। কিন্তু সংস্কারের অভাব ও অবৈধ দখলের কারণে আজ খালটি ভরাট হয়ে গেছে। আমরা ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি পুনরায় খনন করার উদ্যেগ গ্রহন করেছি। এর ফলে সরাসরি ২০ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং এই অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদিত হবে।তিনি আরও বলেন, খনন শেষে খালের দুই পাড়ে ৩ হাজার গাছ লাগানো হবে এবং স্থানীয় মা-বোনদের হাঁস-মুরগি পালনে উদ্বুদ্ধ করা হবে, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে শিক্ষা ও নারীদের উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি বলেন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার শুরু করা নারী শিক্ষার ধারাবাহিকতায় এখন থেকে ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে। মেধাবীদের জন্য থাকবে বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা। খালেদা জিয়া এইচ এস এসি পর্যন্ত নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করে দিয়েছিলেন।
তিনি আরো বলেন আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সকল মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা সহায়তা পাবেন তারা। এছাড়া রান্নার জন্য এলপিজি গ্যাস কার্ডের ব্যবস্থাও করা হবে।এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ ইতিমধ্যে মওকুফ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া বেকারত্ব দূর করতে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, "আমরা শিল্প উদ্যোক্তাদের সাথে আলোচনা করছি যাতে দেশে নতুন নতুন কলকারখানা গড়ে ওঠে। বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা আমাদের অগ্রাধিকার।" এছাড়া তিনি বেনাপোল স্থলবন্দরে দ্রুত একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলে কাজ শুরু করার ঘোষণা দেন।
বিগত ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "৫ আগস্ট ২০২৪-এ দেশ ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে। এখন সময় দেশ গড়ার। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।" তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান এবং আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃরোপণের ল্ক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন ১৯৭৪ সালে এদেশে এত দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল যে না খেয়ে প্রায় ১০ লাখ লোকের মৃত্যু হয়। জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে খাল কেটে ফসল উৎপাদন করে দ্বিগুন ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম হয়। এবং ওই সময় ফসল বিদেশে রফতানিও হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পাদ মন্ত্রী শহিদুজ্জামান চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত,স্বাস্থ্য মন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন, যশোর ৮৫ শার্শা -১ আসন এর সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান,যশোর -২ আসন এমপি মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, নড়াইল-১ আসন এর এমপি বিশ্বাস জাহাঙীর আলম শার্শা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির সাধারন সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন সহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, খালের ওপর ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ হলে তিনি পুনরায় এই এলাকা পরিদর্শনে আসবেন।