বেনাপোল প্রতিনিধি:
বেনাপোল স্থলবন্দরের ২৯ নম্বর শেডের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম এবং রিপন কুমার দাসকে পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ৪৪৪ প্যাকেজ সিন্থেটিক ফেব্রিকসসহ অন্যান্য আমদানিকৃত পণ্য বেনাপোল বন্দরে আসে (মেনিফেস্ট নম্বর: ৫৪৮১১, তারিখ: ৮/০৯/২০২৬)। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ছিল ঢাকার 'সঞ্জিত ইন্টারন্যাশনাল' এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট 'প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল' পণ্যর ওজন ২২০০ কেজি। ওই চালানে দুটি চালান আসে, যার মধ্যে একটি চালান রাতে তিনটি ট্রাকে করে বন্দর থেকে বের হয়ে যায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পণ্য পাচারের অভিযোগ উঠলে স্থলবন্দরের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দুই শেড ইনচার্জের জড়িত থাকার সত্যতা পায় এবং তাদের দোষী সাব্যস্ত করে। এর পরপরই নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে তাদের প্রত্যাহারের আদেশ জারি করা হয়।
অভিযুক্ত শেড ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম ও রিপন কুমার দাস দাবি করেছেন, গত ৮ সেপ্টেম্বরের একটি নির্দিষ্ট চালানকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা কোনো কাগজপত্রহীন পণ্য ট্রাকে করে বের করার ক্ষেত্রে সহায়তা করেননি বলে জানান।
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, "প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে স্থলবন্দরের জনপ্রশাসন শাখায় আনা হয়েছে। পরবর্তীতে বিভাগীয় মামলাসহ কর্তৃপরে নিয়মানুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"