প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 12, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 12, 2026 ইং
সুন্দরবনে আলিফ বাহিনীর ১৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ, বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের মুখে আত্মসমর্পণ করেছে সক্রিয় জলদস্যু বাহিনী ‘আলিফ বাহিনীর’ দুই গ্রুপের ১৫ সদস্য। গত ৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দ্বিতীয় দফায় তারা এসআরবি-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করে। এদিকে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত চিরুনি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
এসআরবি-৬ সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ। এ বনের ওপর নির্ভরশীল হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালের জীবন-জীবিকা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের তৎপরতায় বনজীবীদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং অস্ত্রের ভয়ভীতিসহ নানা ধরনের অপরাধের শিকার হতে হয়েছে।
সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুমুক্ত করতে এসআরবি-৬, কোস্ট গার্ড, স্থানীয় প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে ‘অপারেশন রি-স্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২ মার্চ ২০২৬ থেকে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ করতে ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে এসআরবি ফোর্সেস।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধজগতের অনিশ্চয়তার কারণে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যরা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আলিফ বাহিনীর দুই গ্রুপের ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে যথাসময়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের বিভিন্ন স্থানে গত তিন দিনে বেশ কয়েকটি চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি শটগান, চারটি দুনলা বন্দুক, নয়টি ওয়ান শুটারগান, ২৭৪ রাউন্ড তাজা গুলি ও ২৩টি খালি কার্তুজ। এ ছাড়া সাতটি ওয়াকিটকি সেট এবং ছয়টি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, জলদস্যু বাহিনীর ১৫ সদস্যের আত্মসমর্পণ এবং অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারের ফলে সুন্দরবনের বনজীবীদের নিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক উপকূলীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এসআরবি-৬-এর পক্ষ থেকে সুন্দরবনে এখনো সক্রিয় জলদস্যুদের অপরাধের পথ ছেড়ে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসের পাশাপাশি অপরাধ অব্যাহত রাখলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রেইনড্রপ গ্রুপ।