
মো: আনিছুর রহমান বেনাপোল প্রতিনিধি:
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর ও সীমান্তবর্তী জনপদ বেনাপোল। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সকল চ্যালেঞ্জকে পেছনে ফেলে বেনাপোল পোর্ট থানায় যোগদানের মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছেন নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদ তিতুমীর। একের পর এক ঝটিকা অভিযান, পাড়া-মহল্লায় সরাসরি উপস্থিতি এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি অপরাধীদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, "হয় বেনাপোলে মাদক ব্যবসায়ীরা থাকবে, না হয় পুলিশ থাকবে। তাঁর এই আপসহীন বক্তব্য মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।কথার পাশাপাশি কাজের প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন ওসি শহীদ তিতুমীর। মাদক ও চোরাচালানের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত বারোপোতা বাজারে ইতিমধ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি ছোটআঁচড়া-শিকড়ি সড়ক, বেনাপোল পৌরগেটসহ অপরাধপ্রবণ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জোরদার করা হয়েছে পুলিশের টহল ও নজরদারি।
শুধু থানা এলাকা বা বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি; সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছেন। বেনাপেল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন। যারা এই অন্ধকার জগতের সঙ্গে জড়িত, তাদের অবিলম্বে মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক ও সৎ জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, "প্রয়োজনে দুই হাত-পা দিয়ে কায়িক পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে, তবুও কোনোভাবেই মাদক বিক্রির মতো অভিশপ্ত অপরাধে জড়ানো যাবে না।"
মাদকের সর্বগ্রাসী থাবার পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম বড় সংকট কিশোর ও তরুণদের মাত্রাতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধেও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ওসি শহীদ তিতুমীর। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিার্থীরা যেন আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার বা অনলাইন জুয়ার কোনো ফাঁদে পা না দেয়, সে বিষয়ে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ নজর রাখার ও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তরুণ প্রজন্মকে রা করতে এই ধরনের সামাজিক অবয়মূলক অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
বেনাপোল একটি স্পর্শকাতর ও ব্যস্ততম সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে আইনশৃঙ্খলা রা ও চোরাচালান রোধে পুলিশের ধারাবাহিক নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। যোগদানের মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ওসি শহীদ তিতুমীরের এমন সাহসী ও জনবান্ধব তৎপরতায় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত হতাশা কেটে নতুন প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর এখন একটাই প্রত্যাশা মাদক, কিশোর অপরাধ ও চোরাচালান দমনে ওসির এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ যেন ণস্থায়ী না হয়ে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় রূপ নেয়। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় বেনাপোল পোর্ট থানা আইনশৃঙ্খলা রা, জননিরাপত্তা বিধান এবং পেশাদারত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে—এমনটাই এখন সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম প্রত্যাশা।