কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে মানুষের জীবন!

সম্ভবত, আপনি এই খবরটি পড়ছেন একটি স্মার্টফোনে, স্ক্রল করে চলেছেন ফেসবুক নিউজফিড অথবা, ইমেইল টাইপ করতে গিয়ে দেখছেন আপনি টাইপ করার আগেই একেবারে উপযুক্ত শব্দের পরামর্শ এসে পড়ছে। হ্যা আপনি নিজের অজান্তেই ব্যবহার করে চলেছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এবং যা এখন আপনার জীবনের একটি বিশেষ এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই চলুন আমরা এমন কিছু প্রযুক্তির ব্যাপারে জেনে নিই, যার মূল ভিত্তিই এই নকল মস্তিষ্ক দ্বারা প্রক্রিয়াজাত তথ্য।
১। সোশ্যাল মিডিয়া ফিডঃ ফেসবুক যখন শুরু হয় তখন থেকেই এর মূল উদ্দেশ্য ছিল পণ্য বিপণণের সহায়তা করা। প্রতিটি ইউজারের নিকট আলাদাভাবে কাস্টোমাইজ করা  বিভিন্ন তথ্য প্রদর্শন করা মাধ্যমে সর্বাধিক বিক্রয় নিশ্চিত করা। এজন্য ফেসবুকের এলগরিদম সর্বদাই একজন ব্যবহারকারীর কার্যক্রম থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজে নিজেই একটি আলাদা বিজ্ঞাপনের লিস্ট বানিয়ে ফেলে। এর মাধ্যমে পেজে লাইক বেশি পড়ে, ক্লিক বেশি হয়। একইভাবে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ভিজিটর বাড়ায়, ইকমার্স সাইট বেশি ক্রেতা আকর্ষণ করে।
২। ফোনের ক্যামেরাঃ আজকাল দেখা যায় অনেক বেশি স্মার্টফোনের ক্যামেরার ফিচারে বলা হচ্ছে AI Camera , এর মানে হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই ক্যামেরায় তোলা ছবিকে আরো সুন্দর আর সেরা ছবিতে রুপ দিতে পারে। যেমন বিকেলে তোলা একটি ছবি কেমন হবে, এটার তথ্য জানা থাকলে এবং যে ছবিটি তোলা হয়েছে তা সত্যিই একটি বিকেল বেলার ছবি হয়ে থাকে, তাহলে তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ছবির মান আরো উন্নত করা হয়ে থাকে
৩। সাদা কালো ছবি থেকে রঙিন ছবিঃ এখন একটি ওয়েবসাইটে ছবি আপলোড করলেই ম্যাজিকের মত রঙিন ছবি চলে আসে, এর পেছনেও রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। এখানে ক্লিক করে দেখুন বিখ্যাত পরিচালক সত্যজিত রায়ের “পথের পাঁচালী” এর রঙিন সংস্করণ যার সব কাজই করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। https://youtu.be/WwwzVSNbg9E
৪। স্বয়ংক্রিয় গাড়িঃ মানুষের গাড়ি চালানোর ধরণ, রাস্তার নিয়ম আর বাস্তব অভিজ্ঞতা ঘন্টার পর ঘন্টা শিখিয়ে এখন মেশিনকেই ছেড়ে দেয়া হচ্ছে চালকের আসন। সুচারুরূপে এখন নিয়ম মেনে বরং মানুষের চেয়ে ভাল গাড়ি চালাচ্ছে এই মেশিন লার্নিং এলগোরিদম। ভবিষ্যতে গাড়ির চালকের কোন বরাদ্দ আসন না রাখার ইংগিত ও দিচ্ছে টেসলা সহ আরো অনেক বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
৫। শিল্প ও সাহিত্যঃ বিজ্ঞানের অনেকদূর অগ্রগতি হবার পরেও প্রশ্ন করা হত আসলেই কি মানুষের চেয়ে কেউ বেশি শিল্পমনা এবং সৃজনশীল হতে পারে?
এখন আমরা বলতেই পারি পারাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। অনায়াসেই গান লিখছে, কবিতা লিখছে এমনকি এনিমেশন চিত্র, ত্রিমাত্রিক চরিত্রের ডিজাইন, পোশাক আশাক সবই চাইলে একজন মানুষের চেয়েও সুন্দর করে বানিয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন কম্পিউটার প্রোগ্রাম।
এই বিষয়গুলো জেনে কেমন অবাক লাগছে কি?
এর বাইরে আরো একশ, হাজারটা টপিক রয়েছে যার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত। এ নিয়ে সামনে আরো পর্ব আসছে।
Please follow and like us: