যশোর ৮৫ শার্শা-১ আসনে গুঞ্জন উঠেছে বিএনপির ভোটে জামাত পাশ
খুলনা বিভাগ
যশোর জেলা
প্রকাশঃ 2026-02-14 20:20:16 |
শেয়ার করুনঃ Facebook |
Twitter |
Whatsapp |
Linkedin ।
দেখা হয়েছে 3 বার।
যশোর ৮৫ শার্শা-১ আসনে গুঞ্জন উঠেছে বিএনপির ভোটে জামাত পাশ
বেনাপোল প্রতিনিধি:
অবশেষে সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতিয় সংসদ নির্বাচনে যশোর ৮৫ শার্শা-১ আসন এর বাংলাদেশ জামাত ইসলাম এর দাড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান ২৪,৩৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,১১,৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১,৫৫,৮০৭ জন এবং নারী ভোটার ১,৫৫,৮২৩ জন ও হিজড়া ভোটার মাত্র ৩ জন। মাওলানা আজিজুর রহমান ১০২ টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১,১৭,৩৭৭ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দলের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন ৯২,৯৯৫ ভোট পেয়েছেন। গুঞ্জন উঠেছে বিএনপির ভোটে জামাত পাশ।গড় ভোট ৬৬.৫২।
যশোর এর শার্শা এই আসন একটি গুরুত্বপুর্ন সংসদীয় এলাকা। কারন এখানে রয়েছে দেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তি বেনাপোল স্থল বন্দর। এখানে মোট ৪ জন প্রার্থী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। এবং ৩,১১,৬৩৩ জন ভোটারের মধ্যে ২,১৩,৪৮০ জন ভোটার তাদের ভোট প্রদান করেন। এর মধ্যে জামাত এর আজিজুর রহমান ১,১৭,৩৭৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম ধানের শীষ এর প্রার্থী নুরুজ্জামান পেয়েছে ৯২৯৯৫ ভোট ইসলামী শাসনতন্ত্রর প্রাথী হাতপাখা প্রতীক পেয়েছেন ১৭৪১ ভোট এবং জাতিয় পার্টির জাহাঙীর কবির চঞ্চল পেয়েছেন মাত্র ১৩৬৭ ভোট।
বিএনপির এই আসনটি হাতছাড়া হওয়ার প্রধান কারন এখানে ছিলেন ৪ জন বিএনপির নেতা মনোনায়ন প্রত্যাশী। প্রথমে এখানে দল মনোনায়ন দেন সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির সাবেক কেন্দ্রিয় দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি। পরে দলটির চুড়ান্ত মনোনায়ন পান শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন। অপরদিকে বিএনপির মুল প্রতিদ্বন্দী জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রিয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান। তিনি দলের একমাত্র প্রার্থী হওয়ায় নিজের অবস্থানে বেশ আত্নবিশ্বাসী। মাওলানা আজিজুর রহমান এর পক্ষে নির্বাচনী ময়দান চষে বেড়িয়েছেন তার দলের নেতা কর্মীরা। এছাড়া নারী ভোটারদের বড় একটি অংশ তাকে ভোট প্রদান করেছেন বলে ও গুঞ্জন রয়েছে। এর কারনে জামাত এর প্রার্থী ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন।
স্থানীয়রা মনে করেন এখানে বিএনপির নেতা কর্মীদের মধ্যে আভ্যান্তরীন দ্বন্দ ও বিএনপির নিতীনির্ধারকদের প্রার্থী বদল ও একটি কারন হয়ে থাকতে পারে। কারন একজন প্রার্র্থীকে মনোনায়ন দেওয়ার পর তিনি মাঠে ছিলেন প্রায় ৫১দিন। এছাড়া তার আগেও তিনি ভোটারদের আস্থা অর্জনের জন্যও মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। তাতে অনেক ভোটারদের আস্থা অর্জনও করেছিলেন। এছাড়া এই আসনে শার্শা উপজেলা বিএনপির উপদেষ্ঠা খায়রুজ্জামান মধু,সভাপতি আবুল হাসান জহির, এবং সাধারন সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটনও মাঠে ছিলেন। তবে মফিকুল হাসান তৃপ্তি মাঠে থাকা অবস্থায় মনোনায়ন পেলেও তারা তার পক্ষে কাজ না করে মনোনায়ন পরিবর্তন হবে এ আশায় কাজ করেছেন। অবশেষে চুড়ান্ত মনোনায়ন হাতে পান উপজেলা সাধারন সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন। এতে মনোনায়ন প্রত্যাশী বাকি তিন জনের সমর্থকদের একটি অংশ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে গুঞ্জন উঠে। আর এরই কারনে বিএনপির ভরাডুবি বলে মনে করেন নিতী নির্ধারকরা।
নাভারন বুরুজ বাগান ভোট কেন্দ্রের সামনে থাকা জনৈক আব্দুস সালাম বলেন, আপনরা যাই দেখেতেছেন আসলে তা হবে না। এখানে বিএনপির লোকেরা জামাত ইসলামের আজিজুর রহমানকে ভোট দিবে। যদি মফিকুল হাসান তৃপ্তি থাকত তাহলে অসুবিধা হতো না। বিএনপি বিজয়ী হতো। একই কথা বলেন শার্শার উলাশী মাধ্যেমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসা ভোটাররা।