ঢাকা খ্রিষ্টাব্দ। বঙ্গাব্দ। সময়ঃ |

বেনাপোল বন্দরের ২৯ নম্বর শেড নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য: অধিক তদন্তর প্রয়োজন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং, দেখা হয়েছে: ৪৫৮৯ বার।
বেনাপোল বন্দরের ২৯ নম্বর শেড নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য: অধিক তদন্তর প্রয়োজন ছবির ক্যাপশন: বেনাপোল বন্দরের ২৯ নম্বর শেড নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য: অধিক তদন্তর প্রয়োজন
ad728


বেনাপোল প্রতিনিধি:

বেনাপোল স্থলবন্দরের ২৯ নম্বর শেড থেকে সম্প্রতি সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্যবোঝাই তিনটি ট্রাক বের হয়ে যাওয়ার গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মূলত একটি ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে পড়ে।


অনুসন্ধানে জানা যায়, ২৯ নম্বর শেডে গত ৫ সেপ্টেম্বর ও ৮ সেপ্টেম্বর দুটি পৃথক পণ্যের চালান আসে। প্রথম চালান (৫ সেপ্টেম্বর): মেসার্স সাদীয়া এন্টারপ্রাইজের আমদানিকৃত ৪৫৫ প্যাকেজ সিন্থেটিক ফেব্রিক্সের চালানটি বন্দরে আসে (ম্যানিফেস্ট নম্বর: ৫৪৩৩৮, তারিখ: ০৫/০৯/২০২৬; বিল অব এন্ট্রি নম্বর: ৬০৬১৪, তারিখ: ০৬/০৯/২০২৬)। এই চালানের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল ‘প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল’। প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র ও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে চালানটি ডেলিভারি দেওয়া হয়। পণ্যটির খালাস মূল্য ছিল ৩৩,৩৪,৭৪৫ টাকা এবং বন্দর মাশুল বাবদ ৪৯,৩৫ টাকা পরিশোধ করা হয় (চালান নম্বর: ১৮৩৮০৮০৯২০২৬)। রাতে যশোর ট-১১৩১৩৩, ঢাকা মেট্রো-ট-২০৮৩৪৯ এবং ঢাকা মেট্রো-ট-৭৪৭১ নম্বর ট্রাকে (চালান নম্বর: ২৬২৭০০১৫৬১২৬২২১ থেকে ২৮, বন্দর গেটপাস নম্বর: ১৬৪৮৪৪) মালামালগুলো বন্দর ত্যাগ করে।

 দ্বিতীয় চালান (৮ সেপ্টেম্বর) একই শেডে ভারত থেকে ‘সানজিদা ইন্টারন্যাশনাল’ নামের অপর এক আমদানিকারক ২২,০০৪ কেজি (৪৪৪ প্যাকেজ) সিন্থেটিক ফেব্রিক্স আমদানি করে (ম্যানিফেস্ট নম্বর: ৫৪৮১১)। এই চালানের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টও ছিল ‘প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল’।

একই শেডে প্রায় সমজাতীয় দুটি আলাদা পণ্যের চালান ওঠানোকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ায় যে, "রাতের আধারে ২৯ নম্বর শেড থেকে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ৪৪৪ প্যাকেজের ভারতীয় পণ্যের ৩টি ট্রাক বের হয়ে গেছে।"
তবে অনুসন্ধানে ২৯ নম্বর শেডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৪৪৪ প্যাকেজের পণ্যচালানটি এখনও শেডেই রতি রয়েছে। আর খালাস হওয়া পণ্যটি ছিল ৫ সেপ্টেম্বর আসা ৪৫৫ প্যাকেজের সম্পূর্ণ বৈধ চালান।

শেডের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সফিকুল ইসলাম ও রিপন দাস জানান, একটি ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তথ্যের যথাযথ সত্যতা যাচাই-বাছাই না করেই শেড ইনচার্জ দুজনকে ‘কোজড’ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক রুহুল আমিন জানান, "সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে তাঁদের কোজড করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হবে। তদন্তে তাঁদের দোষ প্রমাণিত না হলে তাঁরা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাবেন।"

অন্যদিকে, ওই শেডে দায়িত্বে থাকা কাস্টমসের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) তরিকুল ও সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বড় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; তাঁদের কেবল জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।





নিউজটি পোস্ট করেছেন : মো: আনিছুর রহমান

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কাতারে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নতুন সভাপতি শামীম সম্পাদক সালা

কাতারে বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের নতুন সভাপতি শামীম সম্পাদক সালা