ঢাকা খ্রিষ্টাব্দ। বঙ্গাব্দ। সময়ঃ |

ঢাকার তীব্র যানজট নিরসনে একটি কার্যকর ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং, দেখা হয়েছে: ৪৫৮৯ বার।
ঢাকার তীব্র যানজট নিরসনে একটি কার্যকর ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা ছবির ক্যাপশন:
ad728

ঢাকার তীব্র যানজট নিরসনে একটি কার্যকর ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা

মো: আনিছুর রহমান, বেনাপোল প্রতিনিধি:

রাজধানী ঢাকার চিরচেনা যানজট নিরসনে মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস (এমইএস)-এর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী জনাব মো: সরোয়ার সেখ একটি সুনির্দিষ্ট ও ত্রিমুখী মহাপরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন। তাঁর মতে, ঢাকার যানজট মূলত মনস্তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক ও কারিগরি—এই তিন ধরনের সংকটের সংমিশ্রণ। এই সংকট মোকাবিলায় তিনি সময়াবদ্ধ সমাধান ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছেন।

১. মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন (মানসিকতার উন্নয়ন)

যানজট নিরসনের প্রথম ধাপ হলো মানসিক পরিবর্তন। যাত্রী, ড্রাইভার, পথচারী, ট্রাফিক পুলিশ, বিআরটিএ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতিটি অংশীদারকে (স্টেকহোল্ডার) ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে আন্তরিক ও সদিচ্ছাসম্পন্ন হতে হবে। আইন মানার এই সংস্কৃতি গড়ে না উঠলে কেবল অবকাঠামো নির্মাণ করে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

২. কারিগরি ও অবকাঠামোগত পরিকল্পনা

কারিগরি ত্রুটি দূর করতে তিনি তিন স্তরের সমাধানের রূপরেখা দিয়েছেন:

  • স্বল্পমেয়াদী: রাস্তা ও বাস স্টপেজগুলো সুনির্দিষ্ট করা, ফুটপাত হকারমুক্ত ও পথচারীবান্ধব করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন উচ্ছেদ করে চালকদের পুনর্বাসনের আওতায় আনা। এছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

  • মধ্যমেয়াদী: ডিজিটাল ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, গণপরিবহনকে অটোমেশনের আওতায় আনা এবং মেট্রোরেলসহ সকল গণপরিবহনে সমন্বিত ‘ইউনিফাইড কার্ড’ বা ডিজিটাল টিকিটিং সিস্টেমের দ্রুত সম্প্রসারণ।

  • দীর্ঘমেয়াদী: পর্যাপ্ত ওভারপাস, আন্ডারপাস, ফ্লাইওভার এবং এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পাশাপাশি আধুনিক ‘ইউ-লুপ’ তৈরি করা। মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের পরিধি বৃদ্ধি এবং পাতাল রেল (সাবওয়ে) প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।

৩. গণপরিবহন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সংস্কার

  • যানবাহন নিয়ন্ত্রণ: ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ কমাতে আধুনিক গণপরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি রিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজির মতো ধীরগতির যানবাহনের চলাচল মূল সড়কে সীমিত বা নির্দিষ্ট রুটে সীমাবদ্ধ করতে হবে।

  • আধুনিকায়ন: ট্রাফিক মোড় বা গোলচত্বরগুলো প্রশস্ত করা এবং লেনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডিভাইডারের ব্যবহার নিশ্চিত করা।

  • জবাবদিহিতা: আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থা করা এবং বারবার নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের মতো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান কার্যকর করা।

৪. রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও বাস্তবতা

প্রকৌশলী মো: সরোয়ার সেখের মতে, ঢাকার যানজট সমস্যার মূল অন্তরায় হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। পরিবহন খাত থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠী বা মহল যে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে, তার ফলে ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এই চক্র থেকে বেরিয়ে এসে কঠোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণই পারে রাজধানীবাসীকে এই দুর্বিষহ যানজট থেকে মুক্তি দিতে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : মো: আনিছুর রহমান

কমেন্ট বক্স
মাগুরার শ্রীপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্ব

মাগুরার শ্রীপুরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্ব