যশোরের শার্শায় বুরুজবাগান বালিকা বিদ্যালয়ের দোকান ভাড়া বন্ধ: খাজনার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ
-
নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং, দেখা হয়েছে: ৪৫৮৯ বার।
ছবির ক্যাপশন:
বিশেষ প্রতিনিধি
যশোরের
শার্শা উপজেলার নাভারণ বুরুজবাগান মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান গেট ও
সংলগ্ন এলাকার সরকারি জায়গায় থাকা দোকানগুলোর ভাড়া বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ
উঠেছে। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে দোকানদাররা নিয়মিত স্কুল ফান্ডে ভাড়ার টাকা
দিয়ে আসলেও হঠাৎ করেই স্থানীয় একটি মহলের প্রভাবে তা বন্ধ হয়ে গেছে।
বর্তমানে
স্কুলের ভাড়ার পরিবর্তে নাম ভাঙিয়ে এক শেনীর মানুষ প্রতি সপ্তাহে তোলা
হচ্ছে চাদাঁ বা 'খাজনা'।ভুক্তভোগী দোকানদার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,
বিগত প্রায় দুই দশক ধরে ৯ জন দোকানদার তাদের দোকানের আয়তন অনুযায়ী প্রতি
মাসে ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা করে বুরুজবাগান মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের
উন্নয়ন তহবিলে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু গত ১৩ থেকে ১৪ মাস ধরে হঠাৎ করেই
সেই স্কুলভাড়া পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, এলাকার এক সাবেক
চেয়ারম্যান ও স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার নির্দেশে ইব্রাহিম নামের এক
ব্যক্তি প্রতি সপ্তাহে ‘খাজনা’র নামে এই ৯টি দোকান থেকে জোরপূর্বক প্রায়
১৮০০ টাকা তুলছেন।তিগ্রস্ত দোকানদার মতিয়ার রহমান ও আবুল কালামসহ
অন্যান্যরা আপে করে বলেন, "আমরা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করে আসছি।
কখনো কাউকে এভাবে চাঁদা বা খাজনা দিতে হয়নি। স্কুলের উন্নয়নের স্বার্থে
আমরা নিয়মিত ভাড়ার টাকা পরিশোধ করতাম। কিন্তু বর্তমান ব্যবসায়িক মন্দার
কারণে আমাদের পে একসঙ্গে দুই জায়গায় টাকা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
"তারা
আরও জানান, বর্তমানে দোকানে কর্মরত ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলীম প্রতি সপ্তাহে
২০০ টাকা, মিজান ৩৫০ টাকা, বাদল ২৫০ টাকা, আলাউদ্দীন ২৫০ টাকা, নাজমুল
হোসেন ১০০ টাকা, নিজাম ২০০ টাকা এবং মতিয়ার ও আবুল কালাম যৌথভাবে ৪৫০ টাকা
করে ইব্রাহিমের কাছে টাকা দিচ্ছেন।
দোকানদার কালাম মিয়া বলেন,
আমাদের বাজারের খাজনার টাকা দিতে হবে বলে ইব্রাহীম টাকা তোলে। বলে আমরা
বাজার ইজারা নিয়েছি আপনাদের ইজারার টাকা দিতে হবে। এর আগে কেউ তাদের নিকট
থকে ইজারা বাবদ টাকা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন।এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে দোকান
বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
তবে দোকানদারা বলেন আমাদের খাজনার টাকা বন্ধ হোক আমরা স্কুলের ভাড়া আগের মত নিয়মিত দিয়ে যাব।
স্কুলের
প্রধান শিক্ষক মোমিনুর রহমান বলেন, আমাদের উন্নয়ন ফান্ডে সামনের
দোকানদাররা ভাড়া দিত। যেহেতু ওই জায়গাটি সরকারী হলেও স্কুলের আওতাধীন। অনেক
দিন তারা আমাদের ভাড়া দেয় না। আপনারা দোকানদারদের নিকট শুনলে জানতে পারবেন
কেন তারা ভাড়া দেয় না। আমার চাকুরী বেশী দিন নাই তাছাড়া অনেক কিছু বলা যায়
না আপনরা দোকানদারদের সাথে কথা বলতে পারেন বলে তিনি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে
যান।
নিউজটি পোস্ট করেছেন :
মো: আনিছুর রহমান
কমেন্ট বক্স