বেনাপোল বাহাদুরপুর ইউনিয়ন: আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে পরিবর্তনের অঙ্গীকারে আবদুল মজিদ
বেনাপোল প্রতিনিধি:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেনাপোল পোর্ট থানার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও শার্শা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবদুল মজিদ (মাজেদ)।
সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার ব্রত নিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন এই বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা।
নির্বাচনী আলাপচারিতায় আবদুল মজিদ তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে নজিরবিহীন নিপীড়নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, "বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আমি রাজনৈতিকভাবে হয়রানির শিকার হয়ে ১৭টি মামলার আসামি হয়েছি। এর মধ্যে ৩টি নাশকতা মামলা ও বাকিগুলো ছিল ফৌজদারি। এসব মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা লড়তে গিয়ে আমাকে প্রায় সাড়ে ৭ লক্ষ টাকা খরচ করতে হয়েছে। এমনকি মামলা পরিচালনার ব্যয়ভার মেটাতে নিজের ৪ বিঘা কৃষিজমি বিক্রি করতে হয়েছে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এত প্রতিকূলতা ও আর্থিক ক্ষতি সত্ত্বেও আমি আমার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আমি সবসময় রাজপথে ছিলাম এবং থাকব।"
নির্বাচনে বিজয়ী হলে বাহাদুরপুর ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে আবদুল মজিদের। তার নির্বাচনী ইশতেহারের মূল দিকগুলো হলো:
সার্বিক উন্নয়ন: ইউনিয়নজুড়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করামাদকমুক্ত সমাজ: সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে বেনাপোলে মাদকের ভয়াবহতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং স্থানীয়দের সহায়তায় মাদক ব্যবসা সম্পূর্ণ নির্মূল করা।শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো।সামাজিক নিরাপত্তা: এলাকার অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের কন্যাদের বিয়েতে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।
আবদুল মজিদ আশা প্রকাশ করেন, জনগণ যদি তাকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করে, তবে তিনি তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাবেন। তার এই আত্মত্যাগ ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি স্থানীয় ভোটারদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
মো: আনিছুর রহমান